আন্তর্জাতিক বাজারে ২০২৫ সাল নাগাদ তামার দাম ৭৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ফিচ সলিউশনের গবেষণা ইউনিট বিএমআই।
একদিকে শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা, অন্যদিকে খনি থেকে উত্তোলন তথা সরবরাহ সংকট ধাতুটির মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। খবর সিএনবিসি।
বিএমআইয়ের প্রতিবেদন বলছে, গ্রিন এনার্জিতে রূপান্তর কার্যক্রমের কারণে বিশ্বব্যাপী তামার চাহিদা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। আর ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে মুদ্রাবাজারে ডলারের বিনিময় হার পতন তামার মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী মার্চ নাগাদ সুদহার কমাতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। সুদহার কমে গেলে ডলারের অবনমন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ডলারের বিনিময় মূল্য কমে এলে ভিন্ন মুদ্রার গ্রাহকদের জন্য তামা ক্রয় খরচ কমে আসবে। এতে চাহিদা বাড়বে ধাতুটির।
ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষক ম্যাটি ঝাও বলেন, ‘সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে অনুষ্ঠিত কপ২৮ সম্মেলনে ৬০টির বেশি দেশ ২০৩০ সাল নাগাদ নবায়নযোগ্য শক্তির সক্ষমতা তিন গুণ বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। ফলে নবায়নযোগ্য খাতে তামার ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
একই বিষয়ে সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘এ উদ্যোগ (গ্রিন এনার্জিতে রূপান্তর) তামার বাজার শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।’ ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেয়া পূর্বাভাসে বিনিয়োগ ব্যাংকটি জানায়, নবায়নযোগ্য শক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর যে লক্ষ্যমাত্রা, তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০৩০ সাল নাগাদ তামার চাহিদা অতিরিক্ত ৪২ লাখ টন বাড়বে। এ কারণে ২০২৫ সাল নাগাদ প্রতি টন তামার দাম দাঁড়াতে পারে ১৫ হাজার ডলারে।
বর্তমানে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) প্রতি টন তামা বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৫৫৯ ডলারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চাহিদা বাড়ার তুলনায় খনি থেকে উত্তোলন তুলনামূলক কম হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতিতে পড়তে পারে শিল্প ধাতুটির বাজার। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী তামার ঘাটতি দাঁড়াতে পারে পাঁচ লাখ টনেরও বেশি।
পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে জনবিক্ষোভ ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে গত নভেম্বরে দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় তামা খনি কোব্রে পানামায় উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ফার্স্ট কোয়ান্টাম মিনারেলস। অ্যাংলো-আমেরিকান নামের আরেকটি তামা উত্তোলক কোম্পানি জানায়, খরচ কমানোর অংশ হিসেবে ২০২৪ ও ২৫ সালে তামার সরবরাহ কমানো হতে পারে। গোল্ডম্যানের বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘সরবরাহ ঘাটতির কারণে এটি পরিষ্কার যে তামার বাজার সবচেয়ে কঠিন সময়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।’ তাদের মতে, চলতি বছরই টনপ্রতি দাম ১০ হাজার ডলার ছাড়াবে এবং ২০২৫ সালে তা আরো বাড়তে পারে।










