পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় এশিয়ামুখী হয়ে উঠছে রাশিয়ার জ্বালানি খাত। ইউরোপিয়ান ও মার্কিন ক্রেতারা দেশটি থেকে জ্বালানি তেল ক্রয় বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে তেলের কার্গোগুলো ইউরোপের পরিবর্তে এশিয়ার বন্দরগুলোয় ভিড়ছে। সম্প্রতি জ্বালানি কার্গোর তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সা বিষয়টি জানিয়েছে।

যে মাসে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হয়, সে মাস থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার সরকার ও অলিগার্কদের ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এসব নিষেধাজ্ঞায় দেশটির জন্য জ্বালানি তেল রফতানি করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

ভরটেক্সার দেয়া তথ্যে দেখা গিয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ অর্থনীতিতে যেসব প্রভাব পড়েছে তার মধ্যে অন্যতম জ্বালানি তেলের রফতানি গন্তব্য পরিবর্তন হয়ে যাওয়া। প্রতিবন্ধকতা ও নিষেধাজ্ঞার পরোক্ষ প্রভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা রাশিয়ান জ্বালানি কিনতে না চাওয়ায় এশিয়ার বাজারে বিক্রি বাড়াচ্ছে দেশটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ১-২২ মার্চ পর্যন্ত ইউরোপে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি প্রায় দৈনিক ২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করে কমেছে। দৈনিক রফতানি নেমেছে ১৩ লাখ ব্যারেলে।

ঐতিহ্যগতভাবে এশিয়া রাশিয়ান বাল্টিক ও কৃষ্ণ সাগরীয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নিয়মিত ক্রেতা নয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর থেকে এ অঞ্চলে রাশিয়ার জ্বালানি তেল রফতানি দৈনিক ২ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। গত মাসে রুশ জ্বালানি খাতে এশিয়ার বাজার হিস্যা পৌঁছেছে ২৫ শতাংশে, যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।

এশিয়ার মধ্যে চীন ও ভারত ছিল রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এশিয়ার মোট জ্বালানি তেল আমদানির ৫ শতাংশই আমদানি করা হয় এসব দেশ থেকে।

ভরটেক্সার দেয়া তথ্যে দেখা গিয়েছে, রাশিয়া যেসব দেশকে বন্ধুত্বপূর্ণ নয় বলে গণ্য করেছে, ফেব্রুয়ারিতে মোট রফতানির ৭৩ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলই সরবরাহ করা হয়েছিল সেসব দেশে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল দৈনিক ৫৬ লাখ ব্যারেলে।

রাশিয়া সাধারণত ইউরোপের প্রায় সব দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরেও পণ্যটি রফতানি করা হয়। তবে এসব দেশে বর্তমানে রফতানি কমছে। তথ্যানুযায়ী, মার্চে সরবরাহের জন্য কার্গোগুলোয় এবার প্রায় দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কম সরবরাহ করা হয়েছে।

রাশিয়ান জ্বালানি তেল রফতানির পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রত্যক্ষ প্রভাব আসন্ন সপ্তাহগুলোয় আরো তীব্র হয়ে উঠবে। অন্যদিকে এশিয়ার বাজারে দেশটির রফতানি বাড়বে অব্যাহতভাবে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) মতে, রাশিয়া বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ। পণ্যটি রফতানির দিক থেকে দেশটি নেতৃস্থানীয়। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে রাশিয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল করে কমতে পারে।

দি ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন-চার মাসের মধ্যে সরবরাহের জন্য রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার চুক্তি করেছে ভারত। গত সপ্তাহে এ তথ্য জানান জ্বালানিমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি। তিনি এও জানান, প্রতি ব্যারেলে ৩৫ ডলার ছাড় দিয়ে ভারতের কাছে তেল বিক্রি করতে চায় রাশিয়া।