অনলাইন ফাস্ট-ফ্যাশন কোম্পানি শেইন আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে দ্বিগুণের বেশি আয় করেছে। ওয়াশিংটনের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য অনুমতির অপেক্ষায় থাকা চীনা ব্র্যান্ডটি সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

শেইন জানায়, ২০২৩ সালে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া পণ্যের মূল্য প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ওই সময় রেকর্ড ২০০ কোটি ডলারের বেশি মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২২ সালে শেইনের মুনাফা ছিল প্রায় ১৪০ কোটি ও ২০২১ সালে ১১০ কোটি ডলার।

আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয়তার নিরিখে শেইন এখনো প্রতিযোগী এইচঅ্যান্ডএম ও জারা থেকে পিছিয়ে। সর্বশেষ আর্থিক বছর দুই লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড যথাক্রমে ৮৭ কোটি ও ৫৮০ কোটি ডলার মুনাফা করে।

চীনে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে সিঙ্গাপুরের সদর দপ্তর থেকে পরিচালিত হয় শেইন। মূলত তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে পোশাক তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কম দামেই পোশাক বিক্রি করে এ জায়ান্ট।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য বেইজিং ও ওয়াশিংটনে অনুমতির জন্য আবেদন করেছে শেইন। চলতি বছরের সবচেয়ে বড় আইপিওর আশাও করছে কোম্পানিটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, চায়না সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশন ও চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানিটিকে শেয়ার বিক্রি করার অনুমতি দেবে। 

২০০৮ সালে চীনের নানজিং শহরে প্রতিষ্ঠিত হলেও শেইন বেশির ভাগ পণ্যই চীনের বাইরে বিক্রি করে। তবে চীনকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয় বেশির ভাগ কার্যক্রম। এ কারণেই চীনের নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে শেয়ার বিক্রির অনুমোদন পেতে হবে শেইনকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিধিনিষেধের কারণে মার্কিন পুঁজিবাজারে সক্রিয়তা হারিয়েছে চীনের প্রযুক্তি খাত। এখন চীন চাইছে বিলিয়ন ডলারের এ ব্র্যান্ড যেন ওয়াল স্ট্রিটে নেতৃত্ব দেয়।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেয়ারবাজারে অনুমোদন পেতে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে শেইন। এ বাবদ গত বছরের শেষ নয় মাসে তাদের খরচ হয়েছে ২০ লাখ ডলার। অবশ্য শেইনের গ্রাহক সেবা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি রয়েছে। 

শেইন ২০২২ সালে বিশ্বের বৃহত্তম ফ্যাশন রিটেইলারের স্বীকৃতি পায়। ওই বছর শেষে চীনে প্রতিষ্ঠানটির ১০ হাজার ৩৮২ জন কর্মী ছিল। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২০০।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে শেইন শুরুতে ডিজাইন ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। গুয়াংজুর পাইকারি পোশাকের বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিত তখন। ২০১২ সালের শুরুতে শেইন নিজস্ব সরবরাহ চেইন চালু করে, এরপর প্রতিষ্ঠানটি খুচরা বিক্রেতা হিসেবে রূপান্তর করে। ২০২২ সাল পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি সরবরাহকারীর একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে।