কভিড-১৯-এর বিধিনিষেধ তুলে দেয়ার পর নতুন গতিতে ফিরেছে চীনের কারখানা কার্যক্রম। এক দশকেরও বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙে গত মাসে দেশটির উৎপাদন কার্যক্রম সবচেয়ে দ্রুতগতিতে প্রসারিত হয়েছে বলে চীনের সরকারি সূচকের তথ্যে জানা গেছে। গতকাল প্রকাশিত এ সূচকে দেখা যায়, চীন গত বছরের শেষের দিকে নভেল করোনা ভাইরাসবিষয়ক বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার কারণ ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাশার তুলনায় কারখানার উৎপাদন বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের দেয়া তথ্য (এনবিসি) অনুসারে, ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার’স ইনডেক্স (পিএমআই) জানুয়ারিতে ৫০ দশমিক ১ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ৬ পয়েন্টে। সাধারণত পিএমআই ৫০ পয়েন্টের নিচে থাকলে সংকোচন ও ওপরে থাকলে সম্প্রসারণ বোঝানো হয়। বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর পিএমআই সূচক বিশ্লেষকদের ৫০ দশমিক ৫ পয়েন্টের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। তাছাড়া এটি ২০১২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।

কঠোর লকডাউন ও পরবর্তী সময়ে ব্যাপক হারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি ২০২২ সালে অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করে। ডিসেম্বরে ওমিক্রন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। দেশটির পিএমআই সূচক বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক বাজারগুলো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীরাও চীনকে ঘিরে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রেখেছে।

চলতি সপ্তাহান্তে চীনের সংসদের বার্ষিক সভা শুরু হবে। বাজার প্রতিনিধিরা আশা করছেন সভায় অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি নির্বাচন করা হবে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকর্তা। গুওতাই জুনান ইন্টারন্যাশনালের অর্থনীতিবিদ ঝাউ হাও বলেন, ‘পিএমআইয়ের এই সূচক বার্ষিক সভার আগে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। আমরা আশা করি সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে টেকসই করার জন্য আরো সহায়ক নীতি চালু করবে।’

পিএমইআই সূচক অনুসারে, সাত মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনা অর্থনৈতিতে প্রবৃদ্ধির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বিদ্যমান। এনবিসির পক্ষ থেকে পৃথক একটি বিবৃতিতে বলা হয়, কভিড-১৯-এর প্রভাব হ্রাস ও স্থিতিশীল নীতির প্রবর্তন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন পুনরুদ্ধার কার্যক্রকে ত্বরান্বিত করেছে। বিশেষ করে আসবাবপত্র, ধাতব পণ্য ও বৈদ্যুতিক সারঞ্জামের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন বিক্রয়াদেশ পিএমআই সূচক বৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার অন্যান্য অর্থনীতির তুলনায়ও ফেব্রুয়ারিতে চীনের পিএমআই সূচক গতিশীল ছিল।

তবে অভ্যন্তরীণ খরচ ও অনিশ্চিত বিদেশী চাহিদার কারণে জানুয়ারিতে মিলগেট দাম কমে যাওয়ায় চীনের উৎপাদন খাত খানিকটা চাপের মধ্যে ছিল। এ অবস্থায় এনবিএসের পক্ষ থেকে বলা হয়, উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো ইস্পাত ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সংশ্লিষ্ট পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেত হয়েছে।

এদিকে জানুয়ারিতে অফিশিয়াল নন-ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার’স সূচক ৫৪ দশমিক ৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৫৬ দশমিক ৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়। ২০২১ সালের মার্চের পর এ সূচক সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। তাছাড়া নির্মাণ কার্যক্রম ৫৬ দশমিক ৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ২ পয়েন্টে। পরিকাঠামোগত ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আটকে থাকা প্রকল্পগুলোকে সম্পূর্ণ করতে ডেভেলপারদের সহায়তা করার কারণে এটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশটিতে পরিবহন ও আবাসন খাতে উন্নতির সঙ্গে পরিষেবাবিষয়ক কার্যক্রমগুলোও বেড়েছে।