সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে দিয়ে ভুট্টা আমদানি কমতে শুরু করেছে। ভারতে খাদ্যশস্যটির উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধিকে এর পেছনে দায়ী করা হচ্ছে। বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে শস্যটির আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০০ টন কমেছে।

ভোমরা স্থলবন্দরের ভুট্টা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমডি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. কামরুল ইসলাম জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানে ভুট্টা আমদানি কমেছে। ভারতে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে ভুট্টা সরবরাহ কম। বর্তমানে সে দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে কিছু পরিমাণ ভুট্টার মজুদ রয়েছে। সেগুলো থেকেই দেশটি রফতানি করছে। কিন্তু এসব ভুট্টা কিনতে হচ্ছে বেশি দাম দিয়ে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর এ সময়ে যে ভুট্টা আমদানিতে খরচ পড়েছে ২২-২৩ টাকা কেজি। বর্তমানে তা বেড়ে ৩৪-৩৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে। তাছাড়া ডলারের মূল্য বেড়েই চলেছে। ফলে কৃষিপণ্যটির আমদানি কমে গেছে। এখন সপ্তাহে ২৫-৩০ ট্রাক ভুট্টা আমদানি হচ্ছে। অথচ গত বছরের একই সময় সপ্তাহে অন্তত ৫০ ট্রাক ভুট্টা আমদানি হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দহকুলা গ্রামের পাইকারি ভুট্টা ব্যবসায়ী মো. আবু ছালেক জানান, গতকাল ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পাইকারিতে প্রতি কেজি ভুট্টা কিনেছেন ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে। পণ্যটির সরবরাহও কম। তিনি বলেন, তার ভুট্টা মাড়াই মিলে সপ্তাহে ভুট্টার চাহিদা কমপক্ষে ২০-২৫ হাজার কেজি। সেখানে সপ্তাহে ১২-১৩ হাজার কেজি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে, যা দিয়ে তার চাহিদা মিটছে না। তিনি বলেন, স্থানীয় মৎস্য চাষী ও গরুর খামারিদের কাছে মাড়াইকৃত ভুট্টা সরবরাহ করেন। কিন্তু তাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গিয়েছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ বন্দর দিয়ে ভুট্টা আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৫২৭ টন। যার আমদানি মূল্য ৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ভুট্টা আমদানি হয়েছিল ১২ হাজার ৮১৪ টন। যার আমদানি মূল্য ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পণ্যটির আমদানি কমেছে ২৮৭ টন।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার নেয়ামুল হাসান বলেন, সম্প্রতি ভুট্টা আমদানি কমেছে। তবে পণ্যটি আমদানি থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পায় না। ফলে আমদানি কমে যাওয়ার কারণে রাজস্ব আহরণে কোনো প্রভাব পড়েনি।