বেন অ্যান্ড জেরি’সের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেন কোহেনকে দায়িত্ব ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিলিভারের আইসক্রিম স্পিন-অফ ম্যাগনামের প্রধান পিটার টের কুলভে। তার মতে, নতুন প্রজন্মের হাতে আইসক্রিম ব্র্যান্ডটির দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারেন বেন। এমন কড়া মন্তব্য অ্যাক্টিভিস্ট ব্র্যান্ড বেন অ্যান্ড জেরি’সকে নিয়ে বিরোধকে তীব্র করে তুলেছে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। খবর এফটি।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ বিষয়ে কয়েক বছর আগে ইউনিলিভারের সঙ্গে বেন অ্যান্ড জেরি’সের প্রতিষ্ঠাতাদের বিরোধের সূচনা, যা আইনি লড়াই পর্যন্ত গড়িয়েছে। বর্তমানে ইউনিলিভারের স্পিন-অফ ম্যাগনাম আইসক্রিমের অংশ বেন অ্যান্ড জেরি’স ব্র্যান্ড। কোম্পানিটি আজ আমস্টারডামে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে।
ম্যাগনামের প্রধান নির্বাহী পিটার টের কুলভে বলেছেন, কোহেন ও জেরি গ্রিনফিল্ড সত্তরের কোটায় পৌঁছেছেন। একসময় নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে তাদের।’
তিনি বলেন, ‘ব্র্যান্ড ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি অপরিসীম। কিন্তু একসময় আপনাকে এটি হস্তান্তর করতে হবে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
প্রায় ৫০ বছর আগে বেন অ্যান্ড জেরি’স ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন কোহেন ও গ্রিনফিল্ড। ২০০০ সালে ৩২ কোটি ৬০ লাখ ডলারে ব্র্যান্ডটি ইউনিলিভারের কাছে বিক্রি করে দেন তারা। ওই চুক্তিতে একটি স্বাধীন বোর্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাতে ব্র্যান্ডের সামাজিক লক্ষ্য ও সততা সুরক্ষিত থাকে। চুক্তি অনুসারে, সিইও নির্বাচিত করতে পারলেও সংখ্যালঘু ভোটাধিকারের কারণে বোর্ডের বেশির ভাগ সিদ্ধান্তে প্রভাব নেই ইউনিলিভারের।
কোহেন ও গ্রিনফিল্ডের অভিযোগ, ইউনিলিভারের পর ব্র্যান্ডটির অ্যাক্টিভিজমে বাধা দিচ্ছে ম্যাগনাম। এর প্রতিবাদে সেপ্টেম্বরে ইউনিলিভার ছাড়েন গ্রিনফিল্ড।
বেন কোহেন বলেছেন, ‘আমি মনে করি না সামাজিক ন্যায় ও শান্তির জন্য প্রচারণার কোনো বয়সসীমা আছে। ব্র্যান্ডের সামাজিক উদ্দেশ্য থেকে চুপ করানোর আরেকটি চেষ্টা এটি। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বেন অ্যান্ড জেরি’স থেকে আলাদা থাকতে চায় ইউনিলিভার। কিন্তু বেন অ্যান্ড জেরি’সের সামাজিক মিশন সর্বদা ব্র্যান্ডের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত এবং এটি আইনিভাবে সুরক্ষিত।’
পূর্বাভাস অনুসারে, ম্যাগনাম হতে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম আইসক্রিম কোম্পানি। বৈশ্বিক বাজারের কোম্পানিটি হিস্যা এক-পঞ্চমাংশ এবং বার্ষিক আয় ৮০০ কোটি ইউরো। আলাদা কোম্পানি হলেও ম্যাগনামের ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার থাকবে ইউনিলিভারের কাছে।










