বাজার তদারকিসহ প্রশাসনের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে দিনাজপুরের
হিলিতে আমদানিকৃত ও দেশী পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৯ টাকা থেকে ১৭ টাকা। তিন দিন আগে
প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৪৫ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ২৮ থেকে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি
হচ্ছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে কমে ২৮ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভারতীয়
পেঁয়াজ পরিমাণে।
পেঁয়াজের দাম কমায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, একে তো রমজান মাস, এমনিতেই অন্যান্য
সময়ের তুলনায় বাড়তি খরচ হয়। এর ওপর দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ায় অবস্থা খারাপ। এর মধ্যে
পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে ২০-২২ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা আর ২৫-৩০টাকার দেশী পেঁয়াজ
৪৫ টাকায় উঠে গিয়েছিল। তবে পেঁয়াজের দাম আবারো কমতে শুরু করেছে, এতে আমাদের মতো মানুষদের
সুবিধা হয়েছে।
পেঁয়াজ কিনতে আসা মেহেরুন নেসা বলেন, আমাদের আয় খুব সীমিত।
এই আয় দিয়েই সংসার চালাতে হয়। বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে পেঁয়াজের দাম কম ছিল। কিন্তু
যেই কিনা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেল সেই খবরে যেন বাজারে পেঁয়াজের গায়ে
আগুন লেগে গেলো। দাম বাড়তে বাড়তে ভারতীয় পেয়াজ ৩৫ টাকা আর দেশী পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় উঠে
গেলো। তবে এখন আবার দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে প্রশাসনের তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন
তাতে করে দাম আরো কমবে বলে মনে করছি।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শাকিল খান বলেন, গত ১৬ মার্চ
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এই সুযোগে অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মজুত করে রেখেছিলেন।
তেমনি দেশী পেঁয়াজের দাম খানিকটা বাড়িয়ে দেন কৃষকরা। এতে করে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ
কমের কারণে দাম বাড়ে। সম্প্রতি প্রশাসন বাজার মনিটরিংসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
শুরু করছেন। এতে করে যারা পেঁয়াজ মজুত রেখেছিলেন তারা মজুতকৃত পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছেন।
বিশেষ করে যে দেশী পেঁয়াজ মোকামে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ উঠে গিয়েছিল সেই পেঁয়াজ বর্তমানে
দাম কমে ৯০০ টাকায় নেমেছে। মণপ্রতি ৭০০ টাকা করে দাম কমেছে দুই-তিন দিনের ব্যবধানে। বর্তমানে বাজারে প্রচুর পরিমাণে দেশী পেঁয়াজের সরবরাহ
রয়েছে। এর ওপর নতুন হালি পেঁয়াজ উঠছে যার কারণে বাজারে দেশী পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায়
দাম কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে পেঁয়াজ নিয়ে আমরা বসে আছি কিন্তু
তেমন একটা ক্রেতা নেই।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন বলেন,
সরকার নতুন পুরাতন সকল আইপির মেয়াদ ১৫ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এর পরে
নতুন করে আইপি না দেয়ায় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। যেহেতু রমজান মাস চলছে এ সময়ে
পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা থাকে। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পেঁয়াজ
আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়া উচিৎ।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন,
বন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর পর থেকে বন্দর দিয়ে
কোনো প্রকার পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। এতে করে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের যেমন দৈনন্দিন আয় থেকে
বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি কর্মরত শ্রমিকদের আয় কমেছে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধকেন্দ্রের উপ-সহকারী সংগনিরোধ
কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যেসব পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব অনুমতি
দেওয়া হয়েছিল তার মেয়াদ ছিল গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত।
আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) কবে দেবে না দেবে এ সংক্রান্ত নতুন কোনো নির্দেশনা
নেই।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম
বলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও পণ্যের বিক্রয় মূল্য তালিকা
নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। পুরো রমজান মাস
জুড়েই এই ধরনের মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যবসায়ী যদি পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট
তৈরি করে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির চেষ্টা করে
তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।









