বিশ্বজুড়ে কোম্পানিগুলো তাদের শেয়ারহোল্ডারদের গত বছর বেশ বড় অংকের লভ্যাংশ দিয়েছে। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে ১ দশমিক ৫৬ ট্রিলিয়ন ডলার। সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জানুস হেন্ডারসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ লভ্যাংশ ২০২১ সালের চেয়ে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব কমতে শুরু করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর এএফপি।

গ্লোবাল ডিভিডেন্ট ইনডেক্সের তথ্যানুযায়ী, এ প্রবৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি অংশ এসেছে তেল ও গ্যাস উৎপাদন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। ১ হাজার ২০০-এর বেশি বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে। মূলত জ্বালানির উচ্চমূল্য মুনাফার প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তেল ও গ্যাস উৎপাদকরা ৬৬ শতাংশের বেশি মূল্য পরিশোধ করছেন সাধারণ বা বিশেষ লভ্যাংশ হিসেবে। ২০২২ সালে ৮৮ শতাংশ কোম্পানি তাদের লভ্যাংশ পরিশোধ বাড়িয়েছে বা স্থিতিশীল অবস্থায় ধরে রাখতে পেরেছে।

ব্যাংক ও অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছরের শেষ প্রান্তিকে লভ্যাংশের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আবার পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ও শিপিং খাতও মুনাফার মুখ দেখেছে। যদিও ভোগ্যপণ্যের দাম কমতে শুরু করায় এ খাতের মুনাফা ২০২১ সালের তুলনায় কমতে শুরু করেছে।

নানাবিধ সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি এক ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির কারণে পরিবারগুলো খরচের ক্ষেত্রে চাপের মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় করপোরেট খাতের বিপুল মুনাফা ও লভ্যাংশ পরিশোধের খবর নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। জানুস হেন্ডারসনের পোর্টফোলিও ম্যানেজার জেন সুমেক বলেন, ‘‌ভবিষ্যতে লভ্যাংশ পরিশোধের ক্ষেত্রে বেশ অনিশ্চত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ বছরও ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার লভ্যাংশ পরিশোধের প্রত্যাশা করা হলেও প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিভিন্ন ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে পরিস্থিতি অনুকূলে নাও থাকতে পারে।’