বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী চাহিদা ও উত্তোলন বৃদ্ধির প্রভাবে ২০২৬ সালে আকরিক লোহার দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অস্ট্রেলিয়ার অফিস অব দ্য চিফ ইকোনমিস্ট (এওসিই) জানিয়েছে, ইস্পাতের নিম্নমুখী চাহিদা ও সরবরাহ বাড়ার প্রভাবে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত পণ্যটির দামে এ নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতি টন আকরিক লোহার গড় এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) মূল্য ছিল ৯৩ ডলার। ২০২৬ সালে তা কমে টনপ্রতি ৮৫ ডলারে নামতে পারে। ২০২৭ সালে তা আরো কমে গড় মূল্য দাঁড়াতে পারে টনপ্রতি ৮২ ডলার।

সাংহাই মেটাল মার্কেট (এসএমএম) নিউজের ভাষ্যমতে, মৌলিকভাবে আকরিক লোহার সরবরাহ ও চাহিদা কাঠামো ইস্পাতের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। ইস্পাত খাতের কাঁচামালের অন্য ধাপগুলোর তুলনায় আকরিক লোহার বাজারে বড় অস্থিতিশীলতা নেই। স্বল্পমেয়াদে পণ্যটির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল বা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএমআইয়ের (ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট) ক্রেডিটসাইটস জানায়, মধ্যম থেকে দীর্ঘমেয়াদে কম দামের কারণে ২০৩২ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে আকরিক লোহার উত্তোলন কমে যেতে পারে।

তবে ২০২৫-২৯ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আকরিক লোহার উত্তোলন প্রবৃদ্ধি গড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছবে, যা আগের পাঁচ বছরের গড় ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশি। ফলে ২০২৯ সালের মধ্যে ২০২৫ সালের তুলনায় বার্ষিক উত্তোলন বাড়বে প্রায় ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টন।

ক্রেডিটসাইটস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আকরিক লোহা উত্তোলন ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এর পেছনে ছোট প্রকল্পগুলোর সম্প্রসারণ ও নতুন উত্তোলন শুরু হওয়া উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

এওসিইর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে আকরিক লোহার আমদানি-রফতানি বছরে গড়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। গিনির সিমানদু খনি এবং ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রসারিত খনি থেকে নতুন সরবরাহ এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখবে। সিমানদু খনি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে উত্তোলন শুরু করেছে, যার সর্বোচ্চ সক্ষমতা বছরে ১২ কোটি টন।

এসএমএম জানিয়েছে, ইস্পাত কারখানাগুলো মূলত প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে আকরিক লোহা কিনছে এবং বাজারে বেচাকেনার গতি মাঝারি রয়েছে।

যদিও ক্রেডিটসাইটস জানায়, দীর্ঘমেয়াদে নিম্নমুখী দামের পরিবেশে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বড় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো খরচ কমানো ও উত্তোলন বাড়ানোর দিকে নজর দেবে। ব্রাজিলেও সামনের দিনগুলোয় পণ্যটির গড় উত্তোলন বাড়তে পারে। ২০২৫-২৯ পর্যন্ত দেশটির উত্তোলন বছরে গড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।

চীন ২০২৫ সালে লৌহ আকর উৎপাদন ১ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। দেশটি খনিজ অনুসন্ধান প্রকল্প জোরদার ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ভারতে চলতি বছর পণ্যটির উত্তোলন ২ শতাংশ বেড়ে ২৯ কোটি টনে পৌঁছতে পারে। ২০২৫ সালের পর উৎপাদন আরো দ্রুত বাড়বে এবং ২০৩৪ সালে তা ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেডিটসাইটস।