টানা দ্বিতীয়বারের মতো নিম্নমুখিতায় বছর শেষ করেছে স্বর্ণের বাজার। ফেডারেল রিজার্ভের রেকর্ড সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বিদায়ী বছর আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে ডলারের দাম। এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে মূল্যবান এ ধাতু। খবর রয়টার্স।

লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডের অব্যাহত লড়াই নতুন বছরেও মূল্যবান ধাতুর বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করবে। ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলা, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি, কভিড-১৯ প্রতিরোধে বিধিনিষেধ এবং অর্থনীতিতে স্লথগতির কারণে বিদায়ী বছর মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজার ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়ায়।

সর্বশেষ গতকাল স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ১ হাজার ৮২১ ডলার ৫০ সেন্টে। ২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় স্বর্ণের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়ায় ২ হাজার ডলারে বেশিতে। ইউক্রেন সংকট দেখা দিলে ধাতুটির দাম আবারো রেকর্ড পর্যায়ের কাছাকাছি চলে আসে। তার পর থেকে এখন পর্যন্ত দাম কমেছে প্রায় ২০০ ডলার। চলতি বছর ডলারের দাম বেড়ে ২০ বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে ধাতুটির চাহিদা ব্যাপক কমেছে।

এক্সিনিটির প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তাং বলেন, স্বর্ণ জিরো ইল্ডিং সম্পদ। মূল্যবান ধাতুটি সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু চলতি বছরজুড়ে ফেড একের পর এক সুদের হার বাড়ানোয় নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে চাহিদা হারিয়েছে মূল্যবান ধাতুটি।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রৌপ্যের দাম ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২৩ ডলার ৮৭ সেন্টে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কা ধাতুটির চাহিদা প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্লাটিনামের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬৬ ডলার শূন্য ১ সেন্টে পৌঁছেছে। প্যালাডিয়ামের মূল্য স্থির হয়েছে ১ হাজার ৭৮৩ ডলার ৩৫ সেন্টে।