পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ডিএসইর ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে ৩০ সেপ্টেম্বরের সমাপনী দরে এসব শেয়ার হস্তান্তর করা হয়। ডিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুসারে, আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড, শেখ জসিম উদ্দিন ও ফারিয়া হোসেনের অনুকূলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির মালিকানা হস্তান্তরিত হয়েছে। ডমিনেজ স্টিলের উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে থাকা কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ বা ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে স্থানান্তর করা হয়। গত ২৭ আগস্ট এক চিঠির মাধ্যমে এ শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়টি অনুমোদন করেছে বিএসইসি। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভায় আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড, শেখ জসিম উদ্দিন ও ফারিয়া হোসেনের অনূকূলে শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডমিনেজ স্টিলের পর্ষদ।
ডমিনেজের উদ্যোক্তা পরিচালক ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল ইসলামের ১ কোটি ২০ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৮ শেয়ার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের ১ কোটি ২০ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৮, কোম্পানির পরিচালক সুজিত সাহার ২৪ লাখ ৩১ হাজার ৯১৪, পরিচালক আবুল কালাম ভূঁইয়ার ৮০ হাজার ৫৫ ও আরেক পরিচালক রাকিবুল ইসলামের ৮০ হাজার ৫৫টি শেয়ার আকিজ রিসোর্সেসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আবুল কালাম ভূঁইয়ার ২০ লাখ ৫২ হাজার শেয়ার শেখ জসিম উদ্দীন এবং রাকিবুল ইসলামের ২০ লাখ ৫২ হাজার শেয়ার ফারিয়া হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডমিনেজ স্টিলের কারখানার কার্যক্রমের অবস্থা যাচাই করতে গত বছরের ৩ ও ৪ নভেম্বর ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল কোম্পানিটির সাভারের আশুলিয়ায় ও নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে আশুলিয়া ইউনিটটি সচল থাকলেও পলাশ ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ পেয়েছেন ডিএসইর কর্মকর্তারা। উৎপাদন কার্যক্রম আংশিক বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এক বছর ধরে পুঁজিবাজারে ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারদর ও লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তবে শেয়ারদর ও লেনদেন বাড়ার পেছনে কোনো ধরনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে ডিএসইর চিঠির জবাবে সম্প্রতি জানিয়েছে কোম্পানিটি।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৭ পয়সা।
আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ১১ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ২ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৯৭ পয়সায়।
২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ডমিনেজ স্টিলের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ পয়সা।
২০২৩-২৪ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডমিনেজ স্টিলের ইপিএস হয়েছে ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ১৩ পয়সায়।
২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডমিনেজ স্টিলের ইপিএস হয়েছে ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ১৪ পয়সায়।
২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডমিনেজ স্টিলের ইপিএস হয়েছে ৫৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ১৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ২৩ পয়সায়।










