জাপানের আবাসন খাতে চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। এর মূল কারণ হলো জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবমূল্যায়ন এবং লজিস্টিক ও আতিথেয়তা শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা। আবাসন খাতে আন্তর্জাতিক পরামর্শ সংস্থা নাইট ফ্রাংক এ তথ্য জানিয়েছে। খবর জাপান টাইমস।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালের এখন পর্যন্ত দেশটিতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের পরিমাণের ৩০০ কোটি ডলার। এর পরের স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীরা। নাইট ফ্র্যাংকের এশিয়া-প্যাসিফিক গবেষণার প্রধান ক্রিস্টিন লি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের ঋণ ব্যয় কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হচ্ছে। কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে পর্যটক সংখ্যা বাড়ায় বিনিযোগকারীরা পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করছে।’
জিআইসির চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার জেফরি জেনসুভাকিজ সম্প্রতি জাপানকে একটি খুব সুলভ বাজার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে এমএসআরসি রিয়েল অ্যাসেটস অনুসারে, গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রুপ, কেকেআর অ্যান্ড কোম্পানি ও ব্ল্যাকস্টোনের মতো বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ২০২৩ সালের চলতি মাস পর্যন্ত জাপানে হোটেল ব্যবসায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা এশিয়ার বাণিজ্যে অন্যান্য খাতের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হাইব্রিড কাজের ব্যবস্থায় জাপানের উত্থান এবং ক্রমবর্ধমান সরবরাহ বিনিয়োগকারীদের অফিস সেক্টরের চাহিদা পূরণ করছে। ২০২৩ সালে বিনিয়োগের দিক থেকে সিঙ্গাপুর কেবল জাপানেই শীর্ষস্থান দখল করেনি, পরপর দুই বছর ধরে দেশটি এ স্থান ধরে রেখেছে। বিনিয়োগে দেশটির প্রভাবশালী অবস্থানকে মূলধনের পূণর্গঠনে সহযোগিতা করতে পারে। কিংবা সরিয়ে নেয়া যেতে পারে চীন ও হংকংয়ে।
সেক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রধান ঝুঁকিগুলো হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান সুদহার, সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণের অস্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করেছে।
সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে, জাপানের রিয়েল এস্টেট সেক্টর ও সমগ্র এশিয়া, একটি গতিশীল এবং সম্ভাব্য রূপান্তরমূলক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু বিনিয়োগকারীরা মহামারী-পরবর্তী বাজারের প্রতিবন্ধকতা ও সুযোগগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে, তার কারণে এ অঞ্চলে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের অবকাঠামো দ্রুত ও অপ্রত্যাশিত উপায়ে বিকশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।










