নতুন ভিসা স্কিম চালু করতে যাচ্ছে হংকং। নতুন এ স্কিমের লক্ষ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মেধাবীদের হংকংয়ে যুক্ত করা। পাশাপাশি এশিয়ার বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হংকং থেকে মেধাবীদের চলে যাওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে সেটিও রোধ করা। খবর নিক্কেই এশিয়া।
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বলেন, নতুন টপ ট্যালেন্ট পাস স্কিমের মাধ্যমে মেধাবীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে। যাদের বার্ষিক আয় ২৫ লাখ হংকং ডলার বা তার বেশি এবং বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে লেখাপড়া শেষ করে কাজের সুযোগ খুঁজছেন তাদের দুবছরের জন্য নতুন স্কিমের আওতায় সুযোগ দেয়া হবে।
গত কয়েক বছর হাজারো নাগরিক হংকং ছেড়েছেন। মূলত চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কঠোর প্রয়োগের কারণে স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং কভিড-১৯ সংক্রমণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে মানুষের হংকং ত্যাগের প্রবণতা বেড়েছে। গত দুই বছরে হংকংয়ের শ্রমবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ।
নতুন স্কিম ঘোষণার সময় জন লি বলেন, নতুন নতুন মেধা খুঁজে বের করতে এবং তাদের কাজে লাগাতে আমাদের অনেক বেশি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। স্থানীয় মেধার বিকাশ ও তাদের পরিচর্যার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও মেধাবীদের আমন্ত্রণ জানাতে হবে।
এছাড়া আরো কিছু পরিকল্পনার প্রস্তাব দেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে কর রেয়াত এবং বিদেশী নাগরিককে চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করা। এসবের মাধ্যমে মহামারীর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে হংকং।
আগস্টে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছর আগের সময়ের তুলনায় চলতি বছরের মাঝামাঝি হংকংয়ের জনসংখ্যা কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। বৈশ্বিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে হংকংয়ের স্থান দখল করে নিয়েছে সিঙ্গাপুর।
এ অবস্থায় গত আগস্টেই নতুন ভিসা স্কিমের ঘোষণা দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, অভিজ্ঞ, উচ্চ বেতনের বিদেশী মেধাবী কর্মীরা একই সঙ্গে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন। আগে একজন কর্মী কেবল একটি প্রতিষ্ঠানেই কাজের সুযোগ পেতেন। তবে নতুন স্কিম চালুর পর কেউ চাইলে দুটি প্রতিষ্ঠানেও কাজ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, সাবেক নিরাপত্তা প্রধান জন লিকে বিশেষ করে হংকংয়ের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিল বেইজিং। সিঙ্গাপুরের কাছে অবস্থান হারিয়ে ফেলায় এখন বেশ চাপে পড়েছেন তিনি। নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, প্রতিদ্বন্দ্বী শহর সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে আরো মানুষ চলে যেতে পারেন। এ অবস্থায় নতুন স্কিম ও সুবিধা ঘোষণার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে শহরটির প্রশাসন।










