অব্যাহত তিন কার্যদিবসে বাড়ার পর ফিউচারস মার্কেটে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম কমেছে। রিঙ্গিতের ঊর্ধ্বমুখী দাম ও প্রতিদ্বন্দ্বী ভোজ্যতেলগুলোর বাজারে মন্দা এক্ষেত্রে জ্বালানি জুগিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
গতকাল বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৪ হাজার ১৩৮ রিঙ্গিত বা ৯৩৯ ডলার ৩৯ সেন্ট।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সয়াবিনের দাম ব্যাপক কমেছে। অন্যদিকে ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে কমেছে পাম অয়েলের দাম। এছাড়া রিঙ্গিতের দাম কমে যাওয়ায় পাম অয়েল রফতানিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
কার্গোর তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টারটেক টেস্টিং সার্ভিসেস ও অ্যামসপেক এগ্রি জানায়, নভেম্বরে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল রফতানি এক মাসের ব্যবধানে ১ দশমিক ৭ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
ইন্দোনেশিয়া ১-১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটির অপরিশোধিত পাম অয়েলের রেফারেন্স দাম নির্ধারণ করেছে টনপ্রতি ৮২৪ ডলার ৩২ সেন্ট। টনপ্রতি রফতানি শুল্ক ৩৩ ডলারই রাখা হয়েছে।
তথ্য বলছে, গতকাল শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ১৫ শতাংশ এবং পাম অয়েলের দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন বেড়েছে। এতে তুলনামূলক কম আমদানি করতে হয়েছে পণ্যটির। উৎপাদন বাড়ায় অক্টোবরে মজুদ তিন বছরের সর্বোচ্চে উঠে আসে।
রয়টার্সের দেয়া তথ্য বলছে, অক্টোবরের পাম অয়েলের মজুদ দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৩০ হাজার টনে, যা এর আগের মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালের পর এটিই হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ মজুদ। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে পাম অয়েল সংগ্রহের সবচেয়ে ভালো সময় চলছে। এ কারণে উৎপাদনের পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী।
পাঁচ মাস ধরেই মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন ঊর্ধ্বমুখী। তবে অক্টোবরে উৎপাদন পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভালো। এ সময়ের উৎপাদন দুই বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। তবে চলতি মাসে উৎপাদন কমতে পারে। কারণ বছরের শেষ সময়ের বৃষ্টিপাতে এ সময় পাম ফল সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
এদিকে উৎপাদন ও মজুদের পাশাপাশি রফতানিতেও প্রবৃদ্ধি দেখেছে মালয়েশিয়া। অক্টোবরে দেশটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার টন পাম অয়েল রফতানি করেছিল।










