সংস্থাটি মনে করে, করের হার না বাড়িয়েও ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ ও স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আহরণ ব্যাপকভাবে বাড়ানো সম্ভব। গতকাল আইসিএবি ও দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট গোলটেবিল বৈঠকে আইসিএবি সভাপতি এনকেএ মবিন (এফসিএ) এসব কথা বলেন।
‘ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ও রাজস্ব আহরণ’ শীর্ষক এ আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অন্যদের মধ্যে আরো ছিলেন দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, আইসিএবি কাউন্সিল সদস্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপক সাব্বীর আহমেদ (এফসিএ), সহব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভাপতির বক্তব্যে এনকেএ মবিন বলেন, ‘ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং এখন আর বাংলাদেশের জন্য বিকল্প নয়। বরং একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও ভবিষ্যৎ উপযোগী অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য এটি অপরিহার্য। ম্যানুয়াল হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং নির্ভুলতা, রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং ও আর্থিক তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে পারে।’
আইসিএবি সভাপতি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব ব্যবস্থার ডিজিটাইজেশনে কাজ করছে, যা কর নির্ধারণ, সংগ্রহ ও নিরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে। এটি শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং সুশাসন, কর-অনুবর্তিতা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।’
রাজস্ব আহরণ নিয়ে এনকেএ মবিন জানান, দেশের অর্থনীতির আকার বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব বাড়ছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।
আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ কোটি এবং রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি নির্ধারণ করা হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় টেকসই রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করতে প্রত্যক্ষ করের অংশ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ভ্যাট ও কর ফাঁকি বন্ধ না হলে রাজস্ব বাড়ানো কঠিন হবে।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিংকে শুধু ব্যাক-অফিস উন্নয়ন নয়, বরং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন শক্তিশালী করার হাতিয়ার হিসেবে দেখার আহ্বান জানান আইসিএবি সভাপতি। তার মতে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো মানসম্মত ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করলে কর কর্তৃপক্ষ সহজেই আয়-ব্যয় ও ভ্যাট যাচাই করতে পারবে। এতে করের হার না বাড়িয়েই বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।










