স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী নেতারা। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি বলে মত তাদের।

রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে গতকাল ‘বাংলাদেশের ব্যবসা পরিবেশ: নৈতিক চর্চার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বক্তারা। দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) যৌথভাবে এ সভা আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ সম্পন্ন করতে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যয় হ্রাস করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোর সেবার মান ও কাজের গতি বাড়াতে হবে। সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

এ সময় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ‘দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’ এক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন ও সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।

সভায় আইবিএফবির পরিচালক এমএস সিদ্দিকী বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত আইন ও বিধি ব্যবসা সহজীকরণের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ছে, যা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।’

অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, ‘সরকারি দপ্তরগুলোর পদ্ধতিগত কিছু জটিলতা রয়েছে। সেগুলো সহজীকরণের সুযোগও আছে।’ এ সময় সেবা পেতে হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বেশকিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আচরণগত সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি।’

সভায় স্বাগত বক্তব্যে আইবিএফবির সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া খান বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন তা কেবল আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ এবং অংশীদারত্বমূলক দায়বদ্ধতা।’

সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ‘ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণে বেসরকারি খাত থেকে যেসব সুপারিশ উঠে এসেছে, সেগুলো এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।’ এ সময় তিনি উদ্যোক্তাদের প্রতি ন্যায্য মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা পালন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স উইং-প্রধান মো. জাফর ইকবাল, সেফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহসহ সংশ্লিষ্টরা।