বৈশ্বিক সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। বিদেশী বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী ও দক্ষ কর্মীদের আগ্রহী করতে এরই মধ্যে আকর্ষণীয় ভিসা স্কিম চালু করেছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার। এ ধারাবাহিকতায় সৌদি প্রবর্তিত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি ভিসা কার্যক্রমে নতুন সুবিধা যোগ করে সম্প্রতি আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট বিষয়ক পরামর্শক সংস্থা নাইট ফ্রাঙ্ক। খবর আরব নিউজ।

২০১৯ সালে চালু হওয়া প্রিমিয়াম রেসিডেন্স ভিসার এ বর্ধিত সুবিধা সৌদি আরবে সম্পদশালী বিদেশীদের জন্য বাজারকে আরো বেশি উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে নাইট ফ্রাঙ্ক। বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্যোগটি দেশটিতে বসবাসরত বিদেশী নাগরিকদের সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ধারণা করা হচ্ছে, এ ভিসা স্কিম আবাসিক সম্পত্তির চাহিদার গতিশীলতায় যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে।

প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি ভিসার লক্ষ্য হলো, যোগ্য বিদেশীদের সৌদি আরবে বসবাসের অনুমতি দেয়া এবং প্রবাসী ও তাদের নির্ভরশীলদের ফি মওকুফ করা। এছাড়া ভিসামুক্ত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, রিয়েল এস্টেটের মালিকানা ও স্পন্সর ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করার অধিকারের মতো সুবিধাভোগ করবেন তারা।

বেশি বেশি বিদেশী ধনী ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করতে এবং জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে পাঁচটি নতুন সুবিধা যুক্ত করেছে সৌদি আরব।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো, দেশটিতে ন্যূনতম ৪০ লাখ রিয়াল বা ১৭ লাখ ডলার মূল্যের আবাসিক রিয়েল এস্টেট সম্পদের মালিকানা নিতে পারবেন বিদেশীরা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাইট ফ্রাঙ্ক বলছে, সৌদি আরবের প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি ভিসা আরো প্রিমিয়াম আবাসিক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করবে। এতে ডেভেলপাররা নতুন নতুন প্রকল্পে কাজ করতে উৎসাহিত হবে। এর মাধ্যমে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোর আবাসন ও অবকাঠামোভাবে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

নাইট ফ্রাঙ্কের উপদেষ্টা তালাল রাক্কাবানের মতে, ‘এ নতুন ভিসা স্কিমের প্রবর্তন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের বিকল্প খুঁজছেন, এমন ধনী বিদেশীদের বাজারে আনার একটি কৌশলগত উদ্যোগ।’”

পরামর্শক সংস্থাটির মতে, ব্র্যান্ডেড রেসিডেন্সির চাহিদা সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট খাতের প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আবাসিক প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ পেয়েছে সৌদি আরব। ফলে দেশটি এখন বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে আকর্ষণীয় নতুন বাজারগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছে।

নাইট ফ্রাঙ্ক বলছে, সৌদি আরবে মিলিয়নেয়ারের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ব্র্যান্ডেড আবাসনের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করবে।