সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসলাজাতীয় পণ্য জিরা আমদানি বেড়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর পণ্যটি দ্বিগুণেরও বেশি আমদানি করা হয়েছে। বন্দরসংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১০ মাসে (গত বছরের জুন থেকে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত) প্রায় ২৩ কোটি টাকার জিরা আমদানি করা হয় এ বন্দর দিয়ে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম মসলাজাতীয় পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছর দেশীয় বাজারে আমদানীকৃত জিরার চাহিদা অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান এ অর্থবছরের প্রতি মাসে ১৫০-১৬০ টন জিরা আমদানি করছে, যা গেল বছরের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ বেশি। আমরা আমদানীকৃত এসব জিরা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকি।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী ও আড়তদার জহুরুল ইসলাম জানান, চলতি অর্থবছর অন্যান্য মসলাজাতীয় পণ্যের তুলনায় জিরার চাহিদা বেশি। তিনি আরো বলেন, ভারত থেকে যে পরিমাণ জিরা আমদানি হয়ে থাকে তাতে আমাদের দেশীয় চাহিদা মেটে না। এর পাশাপাশি ইরান ও পাকিস্তান থেকেও জিরা আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। বর্তমানে দেশীয় বাজারে ভারত থেকে আমদানীকৃত জিরা প্রতি কেজি ৩৪০-৩৫০ টাকা এবং ইরান থেকে আমদানীকৃত জিরা ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরের গত ১০ মাসে এ বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৪০৮ টন জিরা আমদানি করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সূত্রটি আরো জানায়, আমদানীকৃত এসব জিরার মূল্য ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আমদানীকৃত এ পরিমাণ জিরা থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ১২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১০ মাসে এ বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি করা হয়েছিল ৫৭০ টন। আমদানীকৃত এসব জিরার মূল্য ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এখান থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছর মসলাজাতীয় পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ৮৩৮ টন, যা দ্বিগুণেরও বেশি।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, জিরার পাশাপাশি অন্যান্য গরম মসলা, বিশেষ করে এলাচ, লবঙ্গ ও দারুচিনি আমদানির সুযোগ দিলে সরকারের রাজস্ব আয় আরো বাড়বে। এতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হতো।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর জিরা আমদানি বেড়েছে। তাছাড়া আমদানীকৃত পণ্যটি থেকে সরকার বেশ ভালো পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারে। গত ১০ মাসে জিরা আমদানিতে সরকারের ১২ কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব আয় এসেছে বলে জানান তিনি।









