শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বন্ধের ঠিক আগের দিন বন্দর দিয়ে ২৭টি ট্রাকে ৮২৮ টন পেঁয়াজ এসেছে। সরবরাহ বাড়ায় পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে ৩ টাকা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গা পূজা উপলক্ষে বন্দর দিয়ে গতকাল থেকে টানা ছয়দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। তবে আগের দিন বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। দাম ছিল আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কম। এদিন বন্দরে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ৫৭-৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা একদিন আগে ছিল ৬০-৬১ টাকা। এছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজ একদিন আগে ৬৬-৬৭ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ৬৩-৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার সবুজ হোসেন বলেন, ‘দুর্গা পূজা উপলক্ষে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। ফলে মোকামগুলোয় পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছিল। আর বাড়তি চাহিদা ঘিরে আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়েছেন। এতে প্রতিদিনই দাম বাড়ছিল পেঁয়াজের। বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত ছিল কিন্তু মোকামগুলোয় পেঁয়াজের তেমন চাহিদা না থাকায় বন্দরে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন আমদানিকারকরা। কিছু পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করলেও ক্রেতা না থাকায় অনেক পেঁয়াজ বন্দর থেকে খালাস করে গুদামে নামিয়ে রেখেছেন আমদানিকারকরা।’

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘‌মূলত ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এর সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। পূজার কারণে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে, ফলে ভারতের কৃষকরা আগেভাগেই খেত থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে ভারতের মোকামগুলোয় চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বাড়তি দামে আমদানি ও চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজ কিনতে না পারায় বন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ কমায় দাম বাড়ছিল।’ পূজার ছুটি শেষে আবারো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম আরো কমে আসবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে ২৭টি ট্রাকে ৮২৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।’ পূজার ছুটি শেষে আবারো আমদানি-রফতানি শুরু হবে বলে জানান তিনি।