এসএমই ফাউন্ডেশন ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইন্স্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এ বিজয়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয় তারা।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী ও ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম আসাদুজ্জামান। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার।

পুরস্কারের আওতায় পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স প্রায় ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ও ব্র্যাক ব্যাংক প্রায় ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা পাবে। তবে এ অর্থ সরাসরি ঋণ বিতরণে ব্যবহার করা যাবে না। এটি ব্যয় করতে হবে বীমাপণ্য নকশা, বিতরণ ব্যবস্থায় সচেতনতা সৃষ্টি, বীমা ব্যবস্থাপনার পর্যবেক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে।

পুরস্কারের শর্ত অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সকে নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে ১০ হাজার ও ব্র্যাক ব্যাংককে ৫ হাজার ৫৭৫ সিএমএসএমই উদ্যোক্তার কাছে ঋণ পৌঁছে দিতে হবে। এ কর্মসূচিতে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে পদক্ষেপ, আরডিআরএস, সিডিআইপি ও দেশা—চারটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স।

এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইউএনডিপির আহ্বানে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৮টি প্রস্তাব জমা পড়ে। জুরি বোর্ডের চূড়ান্ত মূল্যায়নে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স প্রথম ও ব্র্যাক ব্যাংক দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

প্রাথমিক যাচাইয়ে ১৩টি প্রস্তাব উত্তীর্ণ হয়। পরে কারিগরি সক্ষমতা, উদ্ভাবনী বৈশিষ্ট্য, আর্থিক প্রস্তাব, বাস্তবায়নযোগ্যতা, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ সিএমএসএমই খাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বিবেচনায় পাঁচটি প্রস্তাব সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায়। অনুষ্ঠানে ব্যাংক, আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ হলেও প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ উদ্যোক্তার মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ সরাসরি ব্যাংক ঋণ পান। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ পান আরো প্রায় ১৪ শতাংশ উদ্যোক্তা। ফলে প্রায় ৭৭ শতাংশ উদ্যোক্তা এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের বাইরে রয়েছেন। এ বাস্তবতায় বীমাভিত্তিক আর্থিক সুরক্ষা এবং ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যেই ‘ইন্স্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ আয়োজন করা হয়।