যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কমে গত আট মাসের সর্বনিম্নে ঠেকেছে। সামনে মজুদ আরো কমার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, একদিকে রেকর্ড পরিমাণ চাহিদা অন্যদিকে জ্বালানি তেল রফতানিকারকদের জোট ওপেক প্লাসের উত্তোলন কমিয়ে আনার ঘোষণা ও মজুদ খরচ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে থাকায় সবদিক থেকেই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। খবর রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল থাকবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মজুদ ১ কোটি ৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। এর মধ্য দিয়ে মজুদ ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
এনার্জি টেকনোলজি ফার্ম এনভারাসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আল সালাজার বলেছেন, ‘মজুদের পরিমাণ ২০২২ সালের ডিসেম্বরের স্তরে নেমে গেছে এবং এই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মজুদ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখছি না। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।’
আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৮৮ ডলার ০৮ সেন্টে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৫ ডলার ১৬ সেন্টে।
আগস্টে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) দেয়া এক পূর্বাভাসে বলা হয়, আকাশপথে ভ্রমণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা ও চীনের পেট্রোকেমিক্যাল কার্যক্রম বাড়বে। এর ফলে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা চলতি বছর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। এ সময় প্রতিদিন ২২ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে। ফলে বার্ষিক চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ কোটি ২২ লাখ ব্যারেল। কিন্তু দৈনিক উত্তোলন বাড়বে ১৫ লাখ ব্যারেল। চাহিদা ও উত্তোলনের এ ব্যবধানের ফলে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সৌদি আরব স্বেচ্ছায় উত্তোলন কমানোর ফলে সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় ইরান ও ভেনিজুয়েলা বিক্রি বাড়ালেও বাজারের সরবরাহ ঘাটতি কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এদিকে চলতি বছরের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস বাড়িয়েছে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকও। অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও আগামী বছরের চাহিদা নিয়ে আশাবাদী জোটটি। কারণ চীন ও ভারত অব্যাহত জ্বালানির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।
জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার এ পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওপেক ও এর মিত্র জোট ওপেক প্লাসের উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তও বাজারকে চাঙ্গা করে তুলছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে জোটটি গত জুন থেকে আরো ব্যাপক মাত্রায় উত্তোলন কমানোর পদক্ষেপ হাতে নেয়।
জোটসংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী বছর ওপেকের বাইরের দেশগুলো যে হারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে, তার চেয়েও বেশি মাত্রায় বাড়বে চাহিদা। ওপেকের বাইরের দেশগুলোর সরবরাহ দাঁড়াতে পারে দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেলে।
ওপেকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর জোটটির সদস্য দেশগুলো থেকে বিশ্বের দৈনিক ৩ কোটি ২ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল প্রয়োজন হবে, যা চলতি বছরের তুলনায় আট লাখ ব্যারেল বেশি। তবে বর্তমানে সে তুলনায় অনেক কম জ্বালানি তেল উত্তোলন করছে ওপেক।










