উচ্চ সুদের হার তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মুনাফা ৪০ শতাংশ বাড়াতে সহায়তা করেছে। ফলে আর্থিক অবস্থার দিক থেকে বেশ এগিয়ে গিয়েছে ব্যাংকটি। শুরুতে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ বার্ষিক আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। পরে তা বাড়িয়ে ১৩ শতাংশ করা হয়। খবর রয়টার্স।
ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিল উইনটার্স আগেই বলেছিলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। তিনি বলেন, চলতি বছর আমাদের পারফরম্যান্স বেশ শক্তিশালী থাকবে। কিছু পশ্চিমা বাজারে মন্দার বেশ চাপ থাকলেও উল্লেখযোগ্য যেসব খাতে আমরা কাজ করি, সেগুলোয়ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেখা মিলবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মুনাফার খবর তখন প্রকাশ্যে এল, যখন সমধর্মী আরেকটি ব্যাংক এইচএসবিসি জানিয়েছে, প্রান্তিক হিসেবে তাদের মুনাফায় ৪২ শতাংশ পতন হয়েছে। এর কারণ হিসেবে ঋণসংক্রান্ত লোকসান এবং ফ্রান্সে ব্যবসা বিক্রি বাবদ দেয়া চার্জের কথা বলা হয়েছে। আবার হুট করে নতুন সিএফও নিয়োগের ঘোষণাও লোকসানের একটি কারণ হতে পারে। কেবল এইচএসবিসিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরো অনেক ব্যাংকের চেয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের অবস্থা বিপরীত।
মুনাফায় প্রবৃদ্ধি এবং লন্ডনের সদর দপ্তর থেকে পাওয়া যথাযথ নির্দেশনার কারণে ব্যাংকটি দেখিয়েছে, কীভাবে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যাংক মুনাফা করছে। এমনকি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরেও কীভাবে মুনাফা ধরে রেখেছে তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংকিং ইউনিটগুলোয় শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাংকটির মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এগুলো করপোরেট গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং তাদের আয় বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। যদিও ব্যাংকটির আরেক শাখা সম্পদ ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং তারে আয়ও কমেছে। এ আয় হ্রাসের জন্য পুঁজিবাজারের দুর্বল অবস্থাকে দায়ী করা হয়েছে।
সাত বছর আগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের দায়িত্ব নেন উইনটার্স। তিনি শুরু থেকেই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চেষ্টা করে আসছেন। ব্যাংকের ব্যালান্স শিট ঠিকঠাক করার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তিনি ডিজিটাল সম্পদের পোর্টফোলিও তৈরির চেষ্টাও করছেন। অবশ্য দায়িত্ব নেয়ার শুরুতে অসংখ্য কর্মী ছাঁটাইও করেছেন তিনি।
মূল্যস্ফীতি রোধে চলতি বছর বিশ্বের প্রায় সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি কঠোর করেছে। মূলত সুদের হার বৃদ্ধি ব্যাংকগুলোর মুনাফা বাড়ায়। কারণ এর মাধ্যমে তারা গ্রাহকের অর্থ নিয়েই সেখান থেকে ঋণ দেয়। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে পড়েছে।










