বিভিন্ন খাতে কম খরচ, চিকিৎসকদের ধর্মঘট ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমে যাওয়ায় গত বছরের শেষ প্রান্তিকে মন্দায় পতিত হয়েছে যুক্তরাজ্য। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে দশমিক ৩ শতাংশের বেশি। এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বরে প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল। পরপর দুই প্রান্তিকে বিক্রি বৃদ্ধিতে ব্যর্থ হওয়ায় মন্দায় পড়ল যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। খবর বিবিসি।
ওএনএসের বিবৃতি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের জিডিপি দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে, এর আগের তিন মাসে কমেছিল দশমিক ১ শতাংশ।
কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির ওপরও। এতে ব্রিটেনের অর্থনীতি যেমন চাপে পড়ে, তেমনি মূল্যস্ফীতি বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পার্লামেন্টে প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্বেই বিরোধী দল লেবার পার্টির আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন ঋষি সুনাক। সেখানে অর্থনৈতিক সংকটের জন্য শাসক দলের তীব্র সমালোচনা করা হয়।
ঋষি সুনাক গত সপ্তাহে পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে কিছু অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতির একটি মাত্র পূরণ হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, জানুয়ারিতে দেশটির মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে, যা পূর্বাভাসের চেয়ে কম।
সম্প্রতি ব্রিফিংয়ে ঋষি সুনাক জানিয়েছেন, অর্থনীতি আগের প্রান্তিকের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বরের মধ্যে বড় হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সে প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। কারণ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দশমিক ১ শতাংশ কমেছিল। তবে সামগ্রিক অর্থনীতি ২০২৩ সালে দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
কভিড-১৯ মহামারীর বছরগুলো বাদ দিলে গত বছরের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, ২০০৯ সালের পর থেকে ওই সময় সবচেয়ে দুর্বল ছিল ইউকে। ওই সময় বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো ব্যাংক ঋণ দেয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে ভুগছিল। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যে ছায়া-চ্যান্সেলর রাচেল রিভস বলেছেন, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখায় যে ঋষি সুনাকের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি একদম ভেস্তে গেছে।
অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য একা নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে সংকীর্ণভাবে মন্দা এড়ালেও জাপানে দুটি প্রান্তিকে অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে দেশটির অর্থনীতি, যা দেশটিতে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি এখন তৃতীয় থেকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকা তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইউরোপের জার্মানি।
যুক্তরাজ্যে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) বলেছে, এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে বছরের শেষের দিকে অর্থনীতির অবনতি ঘটেছে। নভেম্বরে ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রিতে ছাড় সুবিধা নেয়ার পর ক্রেতারা ডিসেম্বরে কম খরচ করেছেন। এছাড়া জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘটের কারণে স্বাস্থ্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে স্কুলে উপস্থিতির হার ১ শতাংশ কমে যায়।










