স্বল্পোন্নত দেশে বা এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পেতে কর, শুল্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় এখনই সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক। গতকাল ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (আইইউবি) অনুষ্ঠিত বিশেষ লেকচারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

‘‌কনটেম্পোরারি কোরিয়া: ডেমোক্রেসি, ইকোনমি, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ শীর্ষক লেকচারটির আয়োজন করে আইইউবির মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ।

এতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পোশাক ও পাদুকা শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার চমৎকার প্রযুক্তি থাকার পরও দেশটি নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারেনি। কারণ কোরিয়া রফতানি ক্ষেত্রে ওইএম (অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার) পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ পদ্ধতিতে বৈশ্বিক ক্রেতারা কাঁচামাল সরবরাহ থেকে লভ্যাংশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশের এখনই ওইএম পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। এ দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি স্বদেশী শিল্পের বিপরীতে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক হওয়া উচিত।

দেশী কোম্পানিগুলোকে দেশের গণ্ডির বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সংখ্যাতাত্ত্বিক প্রবৃদ্ধি থেকে গুণগত প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দেয়া দরকার বাংলাদেশের। সেজন্য প্রযুক্তি ও সৃজনশীল সক্ষমতা বাড়াতে এ খাতে আরো বিনিয়োগ জরুরি। বাংলাদেশের জনগণের উচিত স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পোশাক পণ্য ব্যবহার করা। নিজেদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য না কিনলে নিছক সংখ্যা দিয়ে বড় বাজার দাবি করে লাভ নেই। 

বিশেষ লেকচারে আরো উপস্থিত ছিলেন আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসাইন, উপাচার্য তানভীর হাসান, উপ-উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।