মেমোরি চিপের ঘাটতি সহজে কাটছে না। বরং এ সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ফোন ও ল্যাপটপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে সংকট সামলাতে বাজারে কম হিস্যা থাকা কোম্পানিগুলো পণ্যের নকশায় পরিবর্তন আনছে। পাশাপাশি বাড়তি খরচের একটি অংশ চাপানো হচ্ছে ক্রেতাদের ওপর। খবর রয়টার্স।
শীর্ষ তিন সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা জানান, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা চিপের দাম নয়। চিপ পাওয়া যাচ্ছে কিনা, সেটিই মূল সংকট।
মেমোরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, ‘সরবরাহের দিক থেকে ২০২৭ সাল মেমোরি শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন বছর হবে। ২০৩০ সালের পরও চাহিদা উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি জানান, মেমোরি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কম দামি স্মার্টফোনে। চলতি বছর বিশ্বে স্মার্টফোনের সরবরাহ ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১০৮ কোটি ইউনিটে নামতে পারে বলে জুনে পূর্বাভাস দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের। এটি হবে এক বছরে স্মার্টফোন সরবরাহ কমার রেকর্ড। মেমোরি চিপের বাড়তি খরচের কারণে কম দামি ফোন উৎপাদন অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ছে।
মেমোরির দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রচলিত ডিআরএএম চিপের চুক্তিমূল্য ১৩-১৮ শতাংশ বাড়তে পারে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দাম বেড়েছিল ৯৩-৯৮ শতাংশ।
ফিনল্যান্ডের ফোন নির্মাতা জোলা বলছে, প্রতিষ্ঠানটির ফোনে ব্যবহৃত স্টোরেজ ও ডিআরএএমের সমন্বিত প্যাকেজের দাম মার্চের শেষ দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এরপর দাম মোটামুটি একই অবস্থায় রয়েছে।
জোলার সিইও সামি পিয়েনিমাকি বলেন, ‘আপাতত দাম স্থিতিশীল থাকায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে মেমোরির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মেরামতযোগ্য ল্যাপটপ নির্মাতা ফ্রেমওয়ার্কও সংকট সামলাতে কৌশল বদলেছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও নিরাভ প্যাটেল বলেন, ‘গত বছরের শেষ দিকে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন সবাই যত বেশি সম্ভব চিপ ও মজুদ সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করে। এতে সংকট আরো গভীর হয়।
মেমোরি সংকটের কারণে পণ্যের নকশায়ও পরিবর্তন আনছে প্রতিষ্ঠানগুলো। জোলা দুই ধরনের মাদারবোর্ড তৈরি করেছে। ফলে প্রয়োজন হলে সমন্বিত মেমোরি প্যাকেজের বদলে আলাদা চিপ ব্যবহার করা যাবে।
ফ্রেমওয়ার্ক শুরুতেই ল্যাপটপের মেমোরি আলাদা করে পরিবর্তনের সুযোগ রেখেছে। এখন গ্রাহকরা পুরনো ল্যাপটপ থেকে খুলে নেয়া মেমোরিও নতুন ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারছেন।
চিপের মান নিয়েও সতর্ক হচ্ছে নির্মাতারা। জোলা প্রতিটি ব্যাচ থেকে পাওয়া নমুনা কঠোরভাবে পরীক্ষা করে। এর মাধ্যমে চিপগুলো নতুন, নাকি ব্যবহৃত বা সংস্কার করা চিপ নতুন পণ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে, তা যাচাই করা হয়।
প্রায় ৪০০ ডলার দামের একটি স্মার্টফোনে মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মেমোরির পেছনে যায়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী মেমোরি সংকট, বিশেষ করে কম দামি ডিভাইস নির্মাতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।










