সিঙ্গাপুরে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত মাসে এশিয়ার নগর রাষ্ট্রটিতে কোর মূল্যস্ফীতি ১৪ বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। দেশটিতে খাদ্য, পরিষেবা ও অন্যান্য পণ্যের ব্যয় ব্যাপক আকারে বেড়ে গিয়েছে।

স্ট্রেইটস টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত পরিবহন ও বাসস্থানের খবর বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগস্টেও এ হার ৫ দশমিক ১ শতাংশ ছিল। এর আগে ২০০৮ সালের নভেম্বরে সিঙ্গাপুরের মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ৫ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছিল।

সিঙ্গাপুরের মুদ্রা কর্তৃপক্ষ (এমএএস) এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (এমটিআই) জানিয়েছে, গত মাসে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। আগস্টেও এ হার একই এবং ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতার কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুরি ডলারের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে এবং আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে মুদ্রানীতি পাঁচবার কঠোর করেছে। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এ সময়ে দেশটিতে খাদ্যপণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে দাম বাড়ার এ হার ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। কারণ খাদ্য পরিষেবা ও রান্না না করা খাবারের দাম দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এছাড়া পরিবহন পরিষেবা ও ছুটির খরচে বড় ধরনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিষেবা মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও আগের মাসে এ হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল। তবে টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসের ফি কিছুটা কমেছে।

এদিকে খুচরা ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি আগস্টের ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে ৩ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, ওষুধ, স্বাস্থ্যপণ্য ও অন্য ব্যক্তিগত প্রসাধন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টেও এ হার একই ছিল। আবাসন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরে বাসস্থানের খরচ বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। আগস্টে যা ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। গাড়ি ও পেট্রলের দামে ধীরগতির কারণে বেসরকারি পরিবহন মূল্যস্ফীতি আগস্টের ২৪ দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় কিছুটা ধীর হয়েছে। গত মাসে এ খরচ বাড়ার হার ছিল ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

এমএএস ও এমটিআই জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রধান অর্থনীতিতে চাহিদা কিছুটা ধীর হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার বাধাগুলো সহজ হতে চলেছে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম শীর্ষ পর্যায় থেকে ধীর হওয়া শুরু করবে। চলমান সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধার কারণে এটি উচ্চই রয়ে গিয়েছে। তাছাড়া পণ্য ও পরিষবাসহ আমদানীকৃত পণ্যের মূল্যস্ফীতি আরো কিছু সময় ধরে উল্লেখযোগ্য থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।