বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইউরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে গত বছর স্থবিরতা দেখা গেছে। এতে মূল ভূমিকা রেখেছে ব্লকটিতে একসময় ‘শক্তিঘর’ হিসেবে পরিচিত জার্মানির অর্থনীতির নেতিবাচক প্রবণতা। এ অবস্থায় ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে অল্পের জন্য মন্দা এড়িয়েছে ব্লকটি। খবর রয়টার্স।
সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করছে জার্মানির শিল্প খাত। ইউরো অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এ লড়াই শিগগিরই শেষ হবে না বলেও পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।
বৈশ্বিক অর্থনীতি গত বছর ইতিবাচক ধারায় ছিল। পাশাপাশি ইউরো অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রও অর্থনীতির ইতিবাচক ধারায় ছিল। তবে একই বছরের শেষ প্রান্তিকে অল্পের জন্য মন্দা এড়িয়েছে ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী ২০ দেশের জোটটি।
ইউরো অঞ্চলের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জার্মানির অর্থনীতি ২০২৩ সালের শেষ তিন মাসে দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। তবে একই সময়ে ইতালি ও স্পেনের প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে ব্লকটির প্রবৃদ্ধি মোটামুটি স্থির ছিল।
সস্তা জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল জার্মানি। এছাড়া চীনের সঙ্গে দেশটির রয়েছে দ্বিমুখী বাণিজ্যিক সম্পর্ক। তবে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েনের কারণে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত হয়। এতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে দেশটির অর্থনীতিতে। একই সঙ্গে এর অভিঘাত পড়েছে পুরো অঞ্চলে।
গ্রীষ্মে একটি দুর্বল পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার আগে আগামী মাসগুলোতেও ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। ফলে আরো একটি স্বল্প বৃদ্ধির বছর দেখবে ব্লকটি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মঙ্গলবার তাদের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে জানিয়েছে, জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ায় মানুষের গৃহস্থালি ব্যয় বেড়েছে, যা প্রকৃত আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সহজ করবে।
তার পরও ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে চলতি বছরের জন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের জন্য ১ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বেসরকারি খাতের অর্থনীতিবিদরাও হতাশার কথা জানিয়েছেন। নিম্নমুখী চাহিদা এবং ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি চ্যালেঞ্জিং বছরের সতর্কবাণী দিয়েছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।
যদিও উভয় অর্থনীতিই মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সুদহার বাড়য়ে চলেছে। মার্কিন অর্থনীতি মন্দার ভয়াবহ পূর্বাভাস কাটিয়ে উঠেছে এবং গত বছর ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে ধর্মঘট ও প্রতিবাদের ঢেউ দিয়ে নতুন বছর শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ধীরে ধীরে ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন জার্মানি ও ফ্রান্সের কৃষকরা। এছাড়া মূল্যস্ফীতি কমায় চলতি বছর ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা ফিরে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
তবে কমার্জব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফ ওয়েইলের মতে, এটি খুব কম এবং বেশ দেরিতে প্রমাণ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘বছরের বাকি সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য উত্থান প্রায় অসম্ভব। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে গ্রীষ্মের আগে ইসিবি তার মূল সুদহার কমাতে পারবে না এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না।’










