চলতি বছর ধীরগতিতে হলেও বাড়বে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা। এ বাড়তি চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। চাহিদা প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করবে এসব দেশ। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানান, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে বিশ্ববাজারে অব্যাহত বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ। ২০২৪ সালে জ্বালানিটির চাহিদা যে হারে বাড়বে, তা পূরণে এ সরবরাহ পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আমেরিকার দেশগুলো থেকে সরবরাহ বাড়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও নিম্নমুখী থাকবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।
ভিন্ন একটি প্রতিবেদনে সম্প্রতি আইইএ জানায়, ২০২৩ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির গতি ছিল অনেক ধীর। চলতি বছর এ গতি আরো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফিরে যেতে পারে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীপূর্ব ধারায়। গত বছর প্রতিদিন ২৩ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছিল। এ বছর বাড়বে ১২ লাখ ব্যারেল করে। মোট দৈনিক চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে।
চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাব্য গতি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে আইইএর বিশ্লেষকরা জানান, কভিড-১৯-সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ার পর চীনে ভ্রমণের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে এসে তা লক্ষণীয় মাত্রায় কমে যায়। ফলে পরিবহন খাতে জ্বালানি পণ্যের ব্যবহারেও ভাটা পড়ে, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে, যার প্রভাব এ বছরও অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে দেশটির অর্থনীতিতে ধীরগতি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণও চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে লম্বা সময় ধরেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাচ্ছে ওপেক প্লাস। সবশেষ জানুয়ারিতে এ জোটের সদস্যদেশগুলোর উত্তোলন দৈনিক ৩ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল করে কমিয়েছে। উত্তোলন কমিয়ে দেয়ার পেছনে প্রধান কারণ পণ্যটির দাম বাড়ানো।
এক্ষেত্রে সুফল পাচ্ছে না জোটটি। জোটের বাইরের দেশগুলো বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ছে। ফাতিহ বিরল জানান, এ অঞ্চলের সরবরাহ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি কানাডা, ব্রাজিল ও গায়ানাও বিপুল পরিমাণে উত্তোলন বাড়াচ্ছে।
এ বছর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাড়তি চাহিদা মেটাতে আমেরিকা অঞ্চলের সরবরাহ পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি বলে জানিয়েছেন ফাতিহ বিরল। বিপুল পরিমাণ সরবরাহ বাজারকে নিম্নমুখী চাপে ফেলবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইইএর এ নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এ বছর জ্বালানি তেলের বাজার অনেকটাই স্বস্তিদায়ক থাকবে। মূল্যের উত্থান-পতনেও স্থিতি বজায় থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরো তীব্র আকার ধারণ না করলে জ্বালানি তেলের দাম এখনকার পর্যায়েই থাকবে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।’










