দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা। কয়েকদিন ধরে অব্যাহত বাড়ছে পেঁয়াজের দর। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিপাকে পড়েছেন পাইকার ও ভোক্তারা। ভারতে মূল্যবৃদ্ধি ও বন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দাম বেড়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, কিছুদিন আগে ভারতে বৃষ্টি ও বন্যায় পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়েছে পণ্যটির।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একদিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি ভারতীয় ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ৫৩-৫৪ টাকা দরে বিক্রি হলেও গতকাল তা বেড়ে ৫৬-৫৮ টাকায় উঠেছে। আর নাসিক জাতের পেঁয়াজ কেজিতে ১ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬১ টাকায়।

বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি যেমন বাড়ছিল তেমনি দামও কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু একদিন পর শনিবার থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে। এক কেজি ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ৫২-৫৩ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে এখন ৫৬-৫৮ টাকায় উঠেছে। আর ৫৮ টাকার নাসিক জাতের পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৬১ টাকায়। সামনে পূজার সময় বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকবে।’ এ সুযোগে আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ এ পাইকারের।

বন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘‌ভারতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের খেত নষ্ট হয়েছে। এতে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভারতের মোকামগুলোয় পেঁয়াজের দাম খানিকটা বেড়েছে। এছাড়া দুর্গা পূজা উপলক্ষে ১৯-২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাতদিন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে বন্দর বন্ধ থাকায় দেশের মোকামগুলো পেঁয়াজ ক্রয়ের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‌আগে যেসব মোকাম এক-দুই ট্রাক নিত, এখন তারা চার-পাঁচ ট্রাক করে পেঁয়াজ চাচ্ছে। কিন্তু বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগাম পেঁয়াজ তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব কারণে ভারতের মোকামগুলোয় চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণও কিছুটা কমেছে। এতে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমায় দাম বাড়তে শুরু করেছে। তাছাড়া আসার পথে বিভিন্ন স্থানে পূজার জন্য চাঁদা দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘‌গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। গত বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে ৬১টি ট্রাকে ১ হাজার ৮২৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন শনিবার থেকে আমদানির পরিমাণ কমতে শুরু করে। এদিন ৩৯টি ট্রাকে ১ হাজার ১৪৬ টন পেঁয়াজ আসে। রোববার ৪৫টি ট্রাকে ১ হাজার ৩৪৫ টন এবং সোমবার ৩৯টি ট্রাকে ১ হাজার ১৬০ টন পেঁয়াজ এসেছে।’