স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্য মূল বিষয় হলো কমপ্লায়েন্স। কারণ ভবন বা কারখানার কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত না হলে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে না। লাইসেন্স ইস্যুকারী সংস্থাগুলোরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। গতকাল এক কর্মশালায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম এ কথা বলেন।
এফবিসিসিআই মিলনায়তনে রোল অব দ্য প্রাইভেট সেক্টর ইন ডিজাস্টার রিস্ক অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, এফবিসিসিআই ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এটির আয়োজন করে। পরে এফবিসিসিআই এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান। এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরো বেশি দক্ষ ও কর্মক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। শুধু সরকারি বা বেসরকারি খাত নয়, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের এ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিডার এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘আজকের এ কর্মশালা এলডিসি-উত্তর বাংলাদেশের প্রস্তুতিমূলক কাজের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্য দিয়ে এফবিসিসিআই তার জাতীয় দায়িত্বের একটি অংশের কাঠামোবদ্ধ কাজের সূচনা করেছে। এফবিসিসিআই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এক্ষেত্রে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং নিজ উদ্যোগের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় ভালো পণ্য আমদানি ও ব্যবহারের ওপর জোর দেন লোকমান হোসেন মিয়া।’
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের ব্যক্তি খাতের দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং সাড়া দান সক্ষমতা বিষয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক উদ্যোক্তা, বিশেষ করে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বিভিন্নমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।’
ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করে আমাদেরকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের নিজেদের কাজের জন্য নিজেদের সমাধান বের করে নিতে বাংলাদেশী সংগঠনের নিজস্ব কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশের নীতি কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে কোনো একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে তা বেশি কার্যকর হয়। তাহলে আমরা বুঝতে পারব আমাদের ঝুঁকি কোথায় আছে। আর সে অনুযায়ী উদ্যোগ নিলে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৩ বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে আজকের বাংলাদেশে বেসরকারি খাত তথা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা জাতীয় উন্নয়ন বিনিয়োগে ৭০-৮০ শতাংশের জোগান দিচ্ছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমাদের সবার সম্মিলিত প্রয়াসে বেসরকারি খাতকে দুর্যোগ সহনশীল করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আমরা সারা পৃথিবীতে জানান দিতে পেরেছি যে ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকে কীভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত গ্রিন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়।’
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এমআইএম-পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে সরকার। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিডার নির্বাহী সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী।









