আন্তর্জাতিক
বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমায় দেশের বাজারেও দাম কমিয়েছে পরিশোধন কোম্পানিগুলো। কিন্তু দিনাজপুরের হিলিতে নতুন মূল্যে মিলছে না সয়াবিন তেল।
বাড়তি দামেই ভোক্তাদের পণ্যটি কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন মূল্যের তেল না পাওয়ায় বাড়তি
দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমায় দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমিয়ে ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বাংলদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা গত বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত ১১ জুন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা কমিয়ে ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
হিলি বাজারে তেল কিনতে আসা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘টিভিতে দেখলাম, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা করে কমানো হয়েছে। কিন্তু বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে এসে দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখছি না। সব দোকানেই ১৮০-১৮৩ টাকা লিটার দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে সংসার চালাতে আমাদের নাজেহাল অবস্থা।’
অন্য তেল ক্রেতা লুৎফর রহমান বলেন, ‘সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা করে কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দাম কমার বিষয়টি শুধু ঘোষণা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। বাজারে এর প্রভাব নেই। এখনো বাড়তি দামেই বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে, কোনো দোকানেই দাম কমেনি। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করেই বাড়তি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন।’ তিনি নির্ধারিত দামে তেল বিক্রির দাবি জানান। বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিংয়ের কথাও বলেন এ ক্রেতা।
হিলি বাজারের তেলবিক্রেতা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে ১০ টাকা কমিয়ে ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো এখন পর্যন্ত নতুন মূল্যের তেল সরবরাহই করেনি। যার কারণে আমাদের আগের দামে কেনা তেল বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন দামের তেল পেলে আমরাও সে দামেই তেল বিক্রি করব।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, ‘বাজারে তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যদি কোনো পণ্যের অহেতুক মূল্য বাড়ায়, তবে তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’









