বিশ্ববাজারে গত মাসেও খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। কৃষ্ণসাগরীয় খাদ্যশস্য রফতানি চুক্তিতে রাশিয়ার ফের যোগদান এবং চুক্তিটি চার মাসের জন্য সম্প্রসারণের ফলে দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক প্রতিবেদনটিতে দেখা গিয়েছে, গত মাসে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বেড়েছে। তবে এতে ভারসাম্য এনেছে খাদ্যশস্য, আমিষ ও দুগ্ধপণ্যের নিম্নমুখী দাম।
প্রতি মাসেই খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক দাম নিয়ে মূল্যসূচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এফএও। গত মাসে মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৩৫ দশমিক ৭ পয়েন্টে। অক্টোবরের তুলনায় মূল্যসূচক অত্যন্ত স্বল্পমাত্রায় কমেছে। এদিকে গত বছরের তুলনায় মূল্যসূচকে ব্যবধানে অনেকটাই কমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দেয়া তথ্য বলছে, রাশিয়া হামলা চালানোর পর থেকেই খাদ্যশস্য রফতানি নিয়ে বিপাকে পড়ে ইউক্রেন। ছয় মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকায় কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর দিয়ে রফতানি তলানিতে নেমে আসে। এ সময় দেশটি স্থল, রেল ও নদীপথ দিয়ে সামান্য পরিমাণে রফতানি অব্যাহত রেখেছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, যুদ্ধের আগে ইউক্রেন প্রতি মাসে গড়ে ৬০ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করত। কিন্তু যুদ্ধের পর তা ১০ লাখ টনে নেমে আসে। এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উদ্যোগ নেয় জাতিসংঘ ও তুরস্ক। তাদের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে গত জুলাইয়ের শেষের দিকে একটি চুক্তি হয়। এর পর থেকে ইউক্রেন আবারো কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য রফতানি শুরু করে। খুব দ্রুতই রফতানিতে প্রবৃদ্ধি আসে। কিন্তু এখনো তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি। গত মাসে চুক্তিটি সম্প্রসারণ নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। রাশিয়া চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণাও দেয়। কিন্তু মাসের শেষ দিকে রাশিয়া ফের চুক্তিতে যোগ দিয়েছে এবং চুক্তিটি চার মাসের জন্য সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এফএওতে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক এক মাসের ব্যবধানে ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। যদিও এটি গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। গত মাসে বিশ্ববাজারে গমের দাম আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৮ এবং ভুট্টার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। কৃষ্ণ সাগরীয় খাদ্যশস্য রফতানি চুক্তি সম্প্রসারণই দাম কমিয়েছে। তবে চালের দাম আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে গত মাসে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। টানা সাত মাস নিম্নমুখী থাকার পর সূচকটি বাড়ল। ভোজ্যতেলের মধ্যে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। তবে সূর্যমুখী ও সরিষা তেলের দাম কমেছে।
এফএওতে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক অক্টোবরের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববাজারে মাখন, ননিবিহীন গুঁড়োদুধ ও ননিযুক্ত গুঁড়োদুধের দাম অব্যাহত কমছে। কারণ এসব পণ্যের আমদানি চাহিদা কম। তবে পনিরের দাম বেড়েছে। ইউরোপের দেশগুলোয় রফতানির জন্য পর্যাপ্ত পনিরের সরবরাহ না থাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে গত মাসে চিনির মূল্যসূচক ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের রফতানি কোটা কমিয়ে দেয়া এবং ব্রাজিলে উৎপাদন ঘাটতির কারণে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। আমিষ পণ্যের মূল্যসূচক দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।










