দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক গড় দাম কমে প্রায় পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। সম্প্রতি গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) আন্তর্জাতিক নিলামে এ দরপতন পরিলক্ষিত হয়। নিলামে সরবরাহ বাড়লেও তা দাম বাড়াতে পারেনি। অন্যতম শীর্ষ ক্রেতা দেশ চীনে দুর্বল চাহিদা দাম কমার ক্ষেত্রে জ্বালানি জুগিয়েছে।
জিডিটি মূল্যসূচক অনুযায়ী, এবারের নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম আগের নিলামের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭৫ ডলারে। ২০১৮ সালের নভেম্বরের পর এটিই সর্বনিম্ন দাম।
নিলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে বিবেচিত হয় ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ। এর গড় দাম ১০ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ২ হাজার ৫৪৮ ডলারে, যা ২০১৬ সালের পর সর্বনিম্ন।
ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ডগ স্টিল বলেন, ‘দুগ্ধপণ্যের বাজারে অবনতি হয়েছে। এসব পণ্যের দাম ব্যাপক হারে কমেছে। চীনে চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও মুদ্রার বিনিময় মূল্য কমে যাওয়া দাম কমার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া বর্তমানে দেশটিতে দুগ্ধপণ্যের সরবরাহও বেশি। স্থানীয় অনশোর গুঁড়ো দুধ উৎপাদন যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে মজুদ। ফলে দেশটিকে আমদানির পেছনে ছুটতে হচ্ছে না।’
এবারের নিলামে সরবরাহ যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে বিক্রিও। বিক্রি আগের নিলামের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। মোট বিক্রি হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৮০ টন। সর্বোচ্চ সরবরাহ হয়েছে ৩৭ হাজার ৭৮০ টন। এর পরও দাম না বেড়ে উল্টো কমেছে। নিলামে ১৫৯ জন ব্যাবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে জয়ী হয় ১২৫ জন।
ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দাম ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ২ হাজার ৩৩৩ ডলারে। মাখনের দাম কমেছে আগের নিলামের তুলনায় ৩ শতাংশ। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫৩৯ ডলারে। তবে মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধের ডাক ওঠেনি। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৪৫২ ডলারে। তবে অন্যান্য পণ্যের দাম কমলেও বেড়েছে চেডার পনিরের। এটি বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ১২৭ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকরা জানান, দুগ্ধপণ্যের দাম কমে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ দেশটির জিডিপির ৭ শতাংশই আসে দুগ্ধপণ্য থেকে। দেশটি এরই মধ্যে মন্দার মধ্যে রয়েছে। চলতি মৌসুমের বাকি সময়জুড়ে দুগ্ধপণ্যের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তা বাজারকে চাঙ্গা করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।










