বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম ‘বইপড়া কর্মসূচি’-তে ১২ বছরে চার লাখের বেশি বই দিয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ও পাঠক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত প্রীতি সম্মেলনে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের অংশীদারত্বের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এমএফএস প্রতিষ্ঠানটি।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীর, চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘বইপড়া কর্মসূচি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহায়তা করেছে, এর মধ্যে বিকাশ অন্যতম।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যবসায়িক লাভের পরিবর্তে এমন উদ্যোগে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিকাশ সহায়তা করেছে, যার সুফল পেয়েছে দেশ।’ সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করলে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার মান বাড়ানো প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এবং কারিগরি শিক্ষার ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে।’

নতুন প্রজন্মকে মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে বের করে আনতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের উদ্যোগের প্রশংসা করে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আরো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কামাল কাদীর বলেন, ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পাশাপাশি দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চাকে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে বিকাশ।’

তিনি আরো জানান, বিকাশের ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জনের আগেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এ কর্মসূচির সঙ্গে অংশীদারত্ব শুরু হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মুক্তচিন্তার জগতে নিয়ে যায়—এমন উদ্যোগকে গুরুত্ব দেয় প্রতিষ্ঠানটি।