সিঙ্গাপুরের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার রোধে নীতিমালা আরো কঠোর করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক অর্থ পাচারে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের মধ্যে অবৈধ তহবিল প্রবাহের ঝুঁকি কমানোর জন্য মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর (এমএএস) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
এমএএস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানায়, ব্যবহারকারীর সুরক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি প্রয়োজন। পরিবর্তন করা নীতিমালা এমএএস নিয়ন্ত্রণ করে এমন অর্থ প্রদানের পরিষেবাগুলোর পরিধিকে আরো সম্প্রসারণ করেছে। আজ থেকে এ পরিবর্তিত নীতিমালাগুলো পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে।
প্রাথমিকভাবে পরিবর্তিত নীতিমালাগুলো ডিজিটাল পেমেন্ট টোকেন পরিষেবা সরবরাহকারী বা ক্রিপ্টো ব্যবসায়ীদের প্রভাবিত করবে। এমএএস এর আগে ২০২২ সালে প্রধান ভার্চুয়াল মুদ্রা প্লাটফর্মগুলোর পতনের পর থেকে এ ধরনের পরিষেবা সরবরাহকারী সংস্থার নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আসছিল।
পরিবর্তিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বর্তমানে লাইসেন্স নেই এমন ডিজিটাল পেমেন্ট টোকেন পরিষেবা সরবরাহকারীদের অবশ্যই ৩০ দিনের মধ্যে এমএএসকে অবহিত করতে হবে। পাশপাশি অস্থায়ীভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ছয় মাসের মধ্যে লাইসেন্সের জন্য আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। লাইসেন্সের জন্য আবেদনের সময় অবশ্যই ব্যবসায়িক কার্যক্রমের একটি সত্যায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যার মধ্যে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ও কাউন্টার টেরোরিজম ফাইন্যান্সিংয়ের নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিও উল্লেখ থাকতে হবে। এছাড়া প্রতিবেদনটি বাইরের একজন নিরীক্ষকের মাধ্যমে তৈরি করতে হবে। প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হলে তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
নীতিমালা কঠোর করার ফলে সিঙ্গাপুরের ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময় সহজ হওয়ার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অর্থ স্থানান্তরেও সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে এমএএস। গত বছর সিঙ্গাপুর ঘোষণা করেছিল, ডিজিটাল পেমেন্ট টোকেন পরিষেবা সরবরাহকারীদের অবশ্যই গ্রাহকদের সম্পদ একটি বিধিবদ্ধ ট্রাস্টে রাখতে হবে, পাশাপাশি খুচরা গ্রাহকদের টোকেন ঋণ দেয়া কমাতে হবে।
এ সিদ্ধান্ত এমন সময় এসেছে, যখন সিঙ্গাপুর বিদেশে অবৈধ জুয়া ও লাইসেন্সবিহীন ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বৃহত্তম অর্থ পাচারের মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি প্রায় ৩০০ কোটি সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে। যার মধ্যে ৩ কোটি ৮০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারেরও বেশি সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি ছিল। এছাড়া মামলায় সন্দেহভাজনদের একজনকে বেআইনি দূরবর্তী জুয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থ পাচারের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং ১৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অপরাধী সিন্ডিকেটগুলোর অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।










