দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তাতে ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঘাটতি দেখা গিয়েছে। বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ কমায় রাজস্ব আহরণ কমেছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস অফিস। যদিও বন্দরে পণ্য আমদানি-রফতানিতে থাকা সমস্যা নিরসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে রাজস্ব আয় আরো বাড়বে বলে মন্তব্য ব্যবসায়ীদের।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৫২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৬০৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেই হিসেবে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বন্দর থেকে ৪২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগস্টে ৪৯ কোটি ৬ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৩৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে ৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অক্টোবরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, আহরণ হয়েছে ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। নভেম্বরে ৫৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আহরণ হয়েছে ৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ মাসে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে মোট আহরণ হয়েছে ১৮৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ফলে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায়। তবে ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব এসেছিল ১৬২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বছরওয়ারি হিসেবে প্রথম পাঁচ মাসে ২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বাড়তি রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার বায়জিদ হোসেন বলেন, ‘গত অর্থবছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে হিলি স্থলবন্দর থেকে চলতি অর্থবছর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে এনবিআর। কিন্তু বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ কমেছে। তার পরও পাঁচ মাসে যে রাজস্ব আহরণ হয়েছে তাতে গত অর্থবছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। যা দেশের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ভালো। কিন্তু একদিকে আমদানিকারকরা অনেক পণ্যের এলসি খুলতে পারছেন না, আবার অনেক পণ্যের আমদানি কমে গেছে। তাতে বন্দর দিয়ে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে ১ লাখ ৬৩ হাজার টন পণ্য আমদানি কম হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণ কমে গেছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কীভাবে।’









