সিঙ্গাপুরে বাড়ি বিক্রির হার ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। দেশটিতে নতুন বাড়ি নির্মাণ কমে যাওয়ায় একনাগাড়ে তিন মাস বাড়ি বিক্রির হারও কমেছে। নগর পুনর্নির্মাণ কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান বলছে, নভেম্বরে দেশটিতে নতুন অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হয়েছে ২৫৯ ইউনিট এবং ডিসেম্বরে বিক্রি কমে ১৭০ ইউনিটে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারির পর যা সর্বনিম্ন বিক্রির হিসাব। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এপিএসি রিয়েলিটি লিমিটেডের ইআরএ বিভাগের গবেষণা ও পরামর্শক প্রধান নিকোলাস ম্যাক বলেন, নতুন বাড়ি বিক্রির এ নিম্নমুখী প্রবণতা সম্ভবত বছরের শেষ দিকের ছুটির মৌসুম ও নতুন বাড়ি নির্মাণ না হওয়ার কারণে হতে পারে। এছাড়া ছুটির সময়টি আবাসন বাজারের ধীরগতির জন্য দায়ী ছিল, কেননা অধিকাংশ নীতিনির্ধারক এ সময় ছুটিতে ছিলেন। ম্যাকের মতে, স্থিতিস্থাপক সম্পত্তি বাজার, পারিবারিক বাড়তি রোজগার ও বেকারত্বের হার কমার কারণে চলতি বছর বাড়ির দাম বাড়তে পারে।

সাম্প্রতিক কেনাকাটা কমা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুরের আবাসন মার্কেট প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে। ধীরগতিতে হলেও ২০২৩ সালে বিক্রয় ও দাম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কানাডা থেকে সুইডেন পর্যন্ত অন্যান্য দেশের আবাসন বাজার উচ্চ মুনাফা হারের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ বছর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব দেশের তুলনায় সিঙ্গাপুরের আবাসন বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, বাড়ি নির্মাণের সংখ্যা বাড়লে সিঙ্গাপুরের আবাসন বাজার পুনরায় ভালো অবস্থানে যাবে। রিয়েল এস্টেট এজেন্সি অরেঞ্জটি অ্যান্ড টাইয়ের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন সান জানিয়েছেন, দেশটিতে বাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত ২০২২ সালের একটি প্রকল্প ও ২০২১ সালে চারটি প্রকল্পের তুলনায় চলতি বছর পাঁচ শতাধিক ইউনিটের সাতটি প্রকল্প চালু হতে পারে। তিনি বলেন, অধিকসংখ্যক বাড়ি নির্মাণের ফলে বাড়ির দাম কমতে পারে। ক্রিস্টিন সানের মতে, চলতি বছর বাড়ির দাম ৫-৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া আরো ১৩-১৬ শতাংশ বাড়বে।