জাপানে চাহিদার চেয়ে বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালে অন্তত এক কোটি বাসযোগ্য বাড়ি অতিরিক্ত রয়ে যাবে। এজন্য সরকারের ভুল আবাসন নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। কারণ ক্রমেই কমছে দেশটির জনসংখ্যা। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ির চাহিদা কমছে। ফলে প্রচুর বাড়ি অবিক্রীত বা অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থাকছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জাপানে ৬ কোটি ২৪ লাখের বেশি বাড়ি ছিল। নমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রত্যাশা, ২০২৩ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ৬ কোটি ৫৪ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চ এক পূর্বাভাসে জানায়, ২০২৩ সাল নাগাদ বাড়ির সংখ্যা ৫ কোটি ৪১ লাখে পৌঁছবে। জনসংখ্যা কমে যাওয়ার পরও পরিবারের সংখ্যা বাড়তে শুরু করবে। কারণ অনেক মানুষ একা বসবাস করবে। দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়া এবং অবিবাহিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াও এর একটি কারণ।

কিয়োটো ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক কেন মিউরা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে অব্যবহূত বা অতিরিক্ত বাড়ির পরিমাণ ভবিষ্যতে দুই থেকে তিন কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৬০ সালজুড়ে জাপান তীব্র আবাসন সংকট বা বাড়ির সংকটে ভোগে। ফলে বাড়ি নির্মাণের পরিমাণ বাড়াতে আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হয় সরকার। ফল হিসেবে ১৯৭৩ সালে এসে আবাসন সংকটের সমাধান হয়। ২০০০-এর দশক পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ লাখ বাড়ি নির্মাণের ধারা অব্যাহত ছিল।

মিউরা বলেন, এরপর দেশের জনসংখ্যা কমতে থাকে। কিন্তু সরকার বাড়ি নির্মাণের নীতি থেকে সরে আসেনি। আবাসন কোম্পানিগুলোকে আগের নিয়মেই বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ অব্যাহত রাখে। নমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, ২০২৩ সালের পর খালি বাড়ির সংখ্যা কমতে শুরু করবে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৮ সাল নাগাদ খালি বাড়ির সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখে নেমে যাবে।

বাড়ির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে জটিল করেছে বিদ্যমান বাড়ির প্রতি গ্রাহকের অনীহা। যারা বাড়ি কিনতে আগ্রহী, তাদের কাছে পুরনো বাড়ির চাহিদা কম। কারণ সেগুলো ভূমিকম্প সহনীয় নয় এবং সেগুলোয় জ্বালানি সাশ্রয়ী পদ্ধতি নেই। সে কারণেই সরকার ও আবাসন খাতের কোম্পানিগুলো বাড়ি তৈরি অব্যাহত রেখেছে।

আদতে ৫ কোটি ৩৬ লাখ বিদ্যমান বাড়ির মধ্যে ৭০ লাখ বাড়িই ভূমিকম্পে টিকে থাকার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। ২০২১ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ কোটি ৪৫ লাখ বাড়ি ভূমিকম্প সহনীয় হলেও জ্বালানি সাশ্রয়ের মানদণ্ড পূরণ করে না। বাড়ির চাহিদার বিপরীতে যে উদ্বৃত্ত রয়েছে, সে সমস্যা সমাধানে দুটি পদ্ধতির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। একটি হলো, বিদ্যমান বাড়ির প্রতি চাহিদা বাড়ানো। কিন্তু বর্তমান বাজার কাঠামোয় সেটি খুব একটা সহজ নয়।

এখনো বয়স্ক মানুষ ও একক অভিভাবকের জন্য বাড়ি খুঁজে পাওয়া কঠিন। মিউরা বলেন, এজন্য সরকারের যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। সরকার চাইলে করের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। কারণ আবাসিক সম্পত্তি খালি হলে অনেক সময় কর বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ওইসব বাড়ির মালিকের জন্য সরকার বিশেষ প্রণোদনা দিতে পারে।