বিশ্ববাজারে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারদর কমেছে। শীর্ষ জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীনে আবারো করোনা সংক্রমণ বাড়ায় নিম্নমুখী চাপে পড়েছে পণ্যটির বাজার। খবর রয়টার্স।
গতকাল পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ১ শতাংশ বা ৭৯ সেন্ট কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮২ ডলার ৪৭ সেন্টে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৮০ সেন্ট বা ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৭৮ ডলার ১৬ সেন্টে।
এর দুদিন আগে উভয় বাজার আদর্শের দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চে আরোহণ করেছিল। বিদেশ থেকে আগতদের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিনে থাকার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নিচ্ছে চীন। আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশন সোমবার এ ঘোষণা দেয়। এর পরই মূলত বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। কিন্তু গত দুদিন আবারো দেশটিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় চাহিদা প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম কমে যাওয়ায় এ প্রবণতা অল্প সময়ের মধ্যেই কেটে যাবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ের কারণে উত্তোলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে পণ্যটির দাম আরো বাড়তে পারে।
অ্যাভাট্রেডের বিশ্লেষক নাইম আসলাম চীনের কোয়ারেন্টিন নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে বলেন, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এমন ঘটবে বলে আগেই অনুমান করেছিলেন।
ফুজিটোমি সিকিউরিটিজের প্রধান বিশ্লেষক কাজুহিকো সাইতো বলেন, তুষার ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে দেশটিতে চলতি সপ্তাহে আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার কারণে মার্কিন গালফ কোস্টে প্রায় দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতা বন্ধ ছিল। নর্থ ডাকোটা থেকে টেক্সাস পর্যন্ত তুষারপাতের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে রাশিয়ার উত্তোলন কমিয়ে দেয়ার আশঙ্কাও দাম বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। আগামী বছরের শুরুতে দেশটি ৫-৭ শতাংশ উত্তোলন কমাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর দেয়া প্রাইস ক্যাপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া নিষেধাজ্ঞার (সর্বোচ্চ মূল্যসীমা) প্রতিক্রিয়ার এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশটি।
সমুদ্রপথে রাশিয়া থেকে ইউরোপে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর ৫ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। পরিশোধিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে। একই দিন জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর প্রাইস ক্যাপও কার্যকর হয়। এতে রুশ জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ৬০ ডলার বেঁধে দেয়া হয়েছে।










