ভারতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চায় বিওয়াইডি। এ লক্ষ্যে চীনা ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম গাড়ির বাজারে অন্যান্য নির্মাতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের ইভি বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখলে নেয়ার পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটির। খবর স্ট্রেইটস টাইমস।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া অটো এক্সপো ২০২৩’ অনুষ্ঠানে বিওয়াইডির ভারতীয় ইউনিটের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় গোপালকৃষ্ণান বলেন, বৈশ্বিক ইভি নির্মাতা হিসেবে বিওয়াইডি নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এক্ষেত্রে ভারতের বাজার সম্ভাবনাময়। কেননা এরই মধ্যে এ অঞ্চলের মানুষ ইভির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে শুরু করছে। ভারতে ইভির চার্জিং অবকাঠামোও বাড়ছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভারতের বাজারে ইভির যাত্রা কিছুটা ধীর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ দাম ও চার্জিং অবকাঠামোর অভাবে ভারতে ইভির বাজার সম্প্রসারণ অনেক ধীর। তবে চলতি সপ্তাহের অটো এক্সপোয় বিদেশী গাড়ি নির্মাতাদের ইভি প্রদর্শনে এ প্রতিবন্ধকতা ছাপ ফেলতে পারেনি। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য লাভজনক বাজারে নিজেদের অবস্থান করে নিতে এরই মধ্যে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

চীনের এসএআইসি মোটর করপোরেশনের ভারতীয় ইউনিট এমজি মোটর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছরের শেষ নাগাদ তিনটি ইভি মডেল উন্মোচনের পরিকল্পনা করছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়া করপোরেশনও আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ভারতে ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ইভির উন্নয়ন ও ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে অভ্যন্তরীণভাবে নির্মিত ইভি উন্মোচন করতে এ বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

সঞ্জয় গোপালকৃষ্ণান জানিয়েছেন, বিওয়াইডি ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করে ২০০৭ সালে। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে তৃতীয় ইভি সিল নামের লাক্সারি সেডান মডেল উন্মোচন করবে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রথম বিদ্যুচ্চালিত অ্যাটো থ্রি স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) বাজারে এনেছিল। চলতি বছর ভারতের বাজারে ১৫ হাজার ইভি বিক্রির পরিকল্পনা বিওয়াইডির।

কোম্পানিটির বাণিজ্যিক প্রসারণের পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এল যখন চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে ভারত নীতি কঠোর করছে। এর আগে আরেক চীনা গাড়ি নির্মাতা গ্রেট ওয়াল মোটর ভারতের ইভি বাজারে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছিল। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় জেনারেল মোটরসের একটি কারখানা কেনার চুক্তি বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটি। সরকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে চীনা গাড়ি নির্মাতা এসএআইসি মোটর করপোরেশনের ভারতীয় ইউনিট এমজি মোটর ইন্ডিয়ারও তদন্ত করছে।

বিওয়াইডির প্রত্যাশা, চীনা কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় বাজারের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম ও গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রসঙ্গে সঞ্জয় গোপালকৃষ্ণায়ন বলেন, ‘ভারত সরকার নিজেদের প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে বিওয়াইডির উচ্চমূল্যের গাড়ি চালু করতে অগ্রাধিকার দেবে। তাছাড়া এখানকার গ্রাহকরাও উচ্চ দামের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল নয়। যেমন গত বছর ভারতে বিক্রি হওয়া আমাদের ৩৮ লাখ ইউনিট গাড়ির মধ্যে ৪১ শতাংশেরই দাম ছিল ১০ লাখ রুপির ঊর্ধ্বে।’

বিওয়াইডি বর্তমানে ভারতের চেন্নাই শহরের একটি কারখানায় গাড়ি সংযোজন করে থাকে। কর্মী সংখ্যা বাড়িয়ে এবং দুই শিফটে কাজ করে চেন্নাইয়ের কারখানায় বার্ষিক ৫০ হাজার ইউনিট গাড়ি উৎপাদন করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানটি।