নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে এবং জাতীয় গ্রিডে অধিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ করতে একটি পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি অঞ্চল স্থাপন, বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পানির তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকার আগামী সপ্তাহে বার্ষিক বাজেট ঘোষণা করবে। এর আগেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়া হলো। এর আগে দেশে জলবায়ু ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি কার্যক্রম পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলতি বছর ক্ষমতায় এসেছেন অ্যান্থনি আলবানিজ।

সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী মাসে দেশটির ভিক্টোরিয়া রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি অঞ্চল স্থাপন এবং অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য রাজ্যটি ১৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা প্রায় ৯৫ কোটি ডলার অর্থায়ন পাবে।

এছাড়া ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের মধ্যে পানির তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে ৭৫ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার ঋণ পাবে ভিক্টোরিয়া রাজ্য কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়া রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত বাস প্রণালি, যা মূলত মারিনাস লিংক নামে পরিচিত। রাজ্য দুটিতে চলাচল সহজ করতে আন্তঃসংযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির সরকার। ক্লিন এনার্জি ফাইন্যান্স করপোরেশনের কাছ থেকে প্রাপ্ত ঋণের ৮০ শতাংশ এ আন্তঃসংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

দেশটির জাতীয় পাওয়ার গ্রিড আধুনিকায়ন এবং পুনর্নির্মাণ করতে ২ হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন সরকার গঠনের পর দেশটির পাওয়ার গ্রিড উন্নয়নে এটিই প্রথম প্রকল্প।

চলতি বছর অস্ট্রেলিয়া বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এবং খুবই কম সময়ই ব্ল্যাকআউট মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো অপ্রত্যাশিতভাবে বিভ্রাটের সম্মুখীন হয়েছিল এবং অন্য কেন্দ্রগুলো কয়লা সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী গ্যাস সরবরাহে সংকটের কারণে দেশটিতে গ্যাস চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মূল্য বাড়িয়ে সামঞ্জস্য করেছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন জ্বালানি শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সস্তা, পরিবেশবান্ধব ও আরো নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে। আজ ঠিক এ কাজই শুরু করা হচ্ছে।