ইউরোপে গত বছর তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে এশিয়ার বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হয়। তলানিতে নামে অঞ্চলটির এলএনজি আমদানি। তবে চলতি বছর আমদানি ফের ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিশ্লেষকরা। এশিয়ার সবচেয়ে বড় এলএনজি আমদানিকারক চীন। দেশটি কভিড-১৯সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ায় সেখানে জ্বালানিটির চাহিদায় পুনরুদ্ধার ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদিও দেশটিতে এলএনজি খাতে পুনরুদ্ধার দীর্ঘমেয়াদি হবে না বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। খবর ন্যাচারালগ্যাসওয়ার্ল্ডডটকম।
চীনে অনেকদিন ধরেই শিল্প গ্যাসের চাহিদা নিম্নমুখী, প্রপার্টি মার্কেটে চলমান অস্থিরতার কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ দিকে মোড় নিয়েছে। শীর্ষ বাজার উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে রফতানি ক্রয়াদেশের পরিমাণ সীমিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানান, চীনের অর্থনীতির জন্য বর্তমানে কোনো ফ্যাক্টরই ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে না। সব খাতেই ধীর প্রবৃদ্ধির চিত্র উঠে আসছে। ঘুরে দাঁড়াতে হিমশিম খাচ্ছে রিয়েল এস্টেট খাত। রফতানি ক্রয়াদেশও নিম্নমুখী ধারা থেকে উতরে উঠতে পারছে না।
এলএনজির দাম সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী পর্যায় থেকে খানিকটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষরা। তবে এ দামও গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চীনের অন্যান্য ক্রেতার জন্য অনেক বেশি। ফলে চীনে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার হার কমার আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটিতে এলএনজির চাহিদা মহামারীপূর্ব প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বেইজিং সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অধীনে দেশটিতে বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। মোট জ্বালানি ব্যবহারে গ্যাসের হিস্যা বাড়াতে আগ্রহী সরকার। দেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলনও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তা গত কয়েক বছরের চেয়ে বেশি হবে না। এ কারণে দেশটিকে আমদানির ওপরই নির্ভরশীল থাকতে হবে। আমদানি পূর্ববর্তী উল্লম্ফনের ধারায় ফিরে যাবে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন সক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়তে পারে। শিল্প গ্যাসের ব্যবহারও সম্প্রসারিত হবে। তবে সরবরাহগত দিক থেকে বিনিয়োগের অভাব দেখা দিতে পারে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতে ব্যায়ের হার এখনো মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফেরেনি।
এশিয়ায় ছয় মাসের মধ্যে জুলাইয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা বেড়েছে প্রবলভাবে। পণ্যবাজার বিশ্লেষকপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যমতে, এশিয়ায় জুলাইয়ে জ্বালানিটির আমদানি হয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ১৫ হাজার টন। যেখানে জুনে আমদানি হয়েছিল ২ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার টন। জানুয়ারির পর ওই মাসেই সবচেয়ে বেশি এলএনজি আমদানি হয়েছে। জুলাইয়ে এশিয়ায় মোট আমদানি বেড়েছে ৫ লাখ ৭০ হাজার টন।
এশিয়ার বড় আমদানিকারকদের মধ্যে চীনের চাহিদা বেশ কমই ছিল। জুলাইয়ে তারা আমদানি করেছে ৫০ লাখ ৯০ হাজার টন, যা জুনের ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টনের থেকে হালকা বেশি। কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ের ৬৭ লাখ ১০ হাজার টনের থেকে অনেক কম। দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ এলএনজি ক্রেতা। জুলাইয়ে তারা আমদানি করেছে ২৮ লাখ ১০ হাজার টন এলএনজি, যা জুনের ২৯ লাখ ২০ হাজার টন থেকে অল্প একটু কম। অন্যদিকে দামের বিষয়ে সংবেদনশীল ভারতে জুলাইয়ে আমদানি হয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টন। যেখানে জুনে ছিল ১৭ লাখ ৭০ হাজার টন।










