ইউক্রেনে আক্রমণের কারণে রাশিয়ার পণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়া জটিলতার মধ্যে রয়েছে। ইউক্রেনও যুদ্ধের কারণে তাদের ক্রেতাদের অন্য সরবরাহকারীদের দ্বারস্থ হতে বলছে। ঠিক এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়া থেকে গম আমদানি বাড়িয়েছে মিসর।
মিসর বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য ক্রেতা দেশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সে পণ্যবাহী জাহাজের তথ্য বলছে, মার্চে রাশিয়া দেশটিতে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৯৫ টন গম সরবরাহ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ইউক্রেন থেকে আমদানি ৪২ শতাংশ কমেছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টনে।
কায়রোভিত্তিক খাদ্যশস্যের বাজারবিষয়ক পরামর্শক এল জাম্মাল বলেন, রাশিয়ান বন্দরগুলো খোলাই রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে জাহাজগুলো ছাড়তে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে মার্চে যথাযথ সময়েই নতুন ও পুরনো চুক্তিকৃত পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
মিসর কৃষ্ণ সাগরীয় গমের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। কারণ এটির গুণগত মান বেশ ভালো। তাছাড়া কিনতে অতিরিক্ত ব্যয়ও হয় না। অঞ্চল দুটির দূরত্বও কম। গত বছর মিসর স্থানীয় চাহিদার ৮০ শতাংশ গমই রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে ক্রয় করে।
২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে সরাসরি হামলা চালানোর পর থেকেই মিসরের গম আমদানিকারকদের রেকর্ড সর্বোচ্চ দাম দিয়ে গম কিনতে হচ্ছে। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে মূল্য পরিশোধেও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাছাড়া যুদ্ধের প্রভাব কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে পণ্য পরিবহন বাধার মুখে রয়েছে, বিশেষ করে ইউক্রেনের বন্দরগুলো বন্ধ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংকগুলো রাশিয়া থেকে গম আমদানিতে অর্থ দিতে ইচ্ছুক নয়। এর পরও আমদানিকারকরা একটি নিরাপদ চ্যানেল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। যাতে এরই মধ্যে পাঠিয়ে দেয়া গমের চালানগুলোর মূল্য পরিশোধ করা যায়। অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, কিছু কার্গোর মূল্য এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। কারণ সেগুলো কেনা হয়েছে যুদ্ধের আগে।
কায়রোভিত্তিক ব্যবসায়ী হাশেম সোলাইমান বলেন, মিসরের মিলিং ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপকভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের গমের ওপর নির্ভরশীল। যতদিন পর্যন্ত এটি পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন পর্যন্তই তারা এ গমকে প্রাধান্য দেবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বেসরকারি খাতে রাশিয়ার বাইরে বিকল্প উৎস থেকে গম কেনা অব্যাহত আছে। তবে এসব গম অত্যন্ত বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ফ্রান্স, ব্রাজিল, লিথুনিয়া ও বুলগেরিয়া থেকে আমদানি করা হচ্ছে। জার্মানি থেকে সামান্য কিছু গম আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।










