পোশাক
পণ্যের একটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো ঋণপত্রের সাধারণ শর্তের সঙ্গে একটি নতুন
শর্ত যুক্ত করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ
কোনো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লে তারা পণ্য নেবে না। যদি পণ্য জাহাজীকরণের পরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলেও অর্থ দেবে
না ক্রেতা প্রতিষ্ঠান।
এ
তথ্য নিশ্চিত করে পোশাক পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ পর্ষদের প্রতিনিধি
বলছেন, ‘শুনেছি ঋণপত্রটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের।’
নতুন
শর্ত যুক্ত ঋণপত্র সম্পর্কে চাইলে বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি এবং ওয়েল ডিজাইনার্স লিমিটেডের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একটা তথ্য পেয়েছি। বেশি
পাইনি। তবে সম্ভাবনা আছে। আপাতত একটা ঋণপত্রের
ঘটনা জেনেছি। কয়েকটি খবর পাচ্ছি, এরকমই হচ্ছে। তবে আমাদের প্রেসিডেন্টের হাতে একটিই এসেছে। শুনেছি এটা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রেতা।’
‘আমরা আমাদের সদস্যদের অবশ্যই এ বিষয়ে সচেতন হতে বলছি’— উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রেতারা যেহেতু ক্লজ দিয়ে
দেয় সেখানে আমার ব্যবসা যদি আমি করতে না পারি
তাহলে যে কোনো ক্লজে আমার অর্ডার হবে। ঋণপত্রে
ক্রেতা ইচ্ছা করলে যে কোনো ক্লজ দিতে পারে।
তাদের দেশের ওপর ভিত্তি করে, এটা তাদের দেশের বিষয়। ক্রেতা বলতে চাচ্ছে যদি কোনো ধরনের ইনস্ট্রাকশন
আসে সেটার জন্য তারা দায়ী থাকবে না। এলসি গ্রহণ না করলে ব্যবসা হবে না। এমনিই অর্ডার কম, তার
মধ্যে এ ধরনের এলসি, এটা একটা অশনি সংকেত।’
নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকায় এমনিই চাহিদা কম। অর্থনীতির পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে পুরো পৃথিবী থেকে তাদের আমদানি কমে গেছে। যেখানে অর্ডার কম সেখানে যদি এমন একটি ক্লজ হয়, সেটা অবশ্যই ক্রেতা সুযোগ নিচ্ছে। সে জন্য আমরা আমাদের সদস্যেরে অবশ্যই অ্যালার্ট থাকতে বলব। পাশাপাশি সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশীরা, আমেরিকা এবং ইউরোপ যেন আমাদের সঙ্গে এরকম কোনো ঘটনা ঘটাতে না পারে।’
এদিকে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে বিজিএমইএর পক্ষ হতে ঋণপত্রে নতুন ধারা বা শর্ত সংক্রান্ত একটি ব্যাখ্যা দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, বিজিএমইএ’র একজন সদস্যকে দেয়া বিদেশী ক্রেতার লেটার অব ক্রেডিটের (এলসি) একটি অনুলিপি আমাদের নজরে এসেছে। এলসিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্যের বিধি নিষেধের আওতাভুক্ত কোনো দেশ, অঞ্চল বা দলের সঙ্গে জড়িত লেনদেন প্রক্রিয়ায় যাব না। নিষেধাজ্ঞাজনিত কোনো বিলম্ব, অপারদর্শিতা বা কোনো তথ্য প্রকাশের জন্য আমরা দায়ী নই।’
বিজিএমইএর দাবি, ধারাটির ব্যাখ্যায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি সঠিক নয়।









