ভারতের পরিষেবা খাতের কার্যক্রমে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। ডিসেম্বরে খাতটির কার্যক্রম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের মধ্যেও জোরালো চাহিদা ব্যবসায়িক মনোভাবকে ত্বরান্বিত করেছে। খবর দ্য প্রিন্ট।

রেটিং এজেন্সি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ভারতের পরিষেবা খাতের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ডিসেম্বরে ৫৮ দশমিক ৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। নভেম্বরে এ সূচক ৫৬ দশমিক ৪ পয়েন্টে ছিল। গত মাসে দেশটির পরিষেবা খাতের কার্যক্রম বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়েও শক্তিশালী ছিল। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা ৫৫ দশমিক ৫ পয়েন্টে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের নিচে সংকোচন এবং এর ওপরে ওই খাতের প্রসারিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের অর্থনীতি বিষয়ক সহযোগী পরিচালক পলিয়ানা ডি লিমা বলেন, ২০২৩ সাল শুরুর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে আরো আশাবাদী হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে তাদের আশঙ্কা মিশ্র ছিল। উৎপাদন ব্যয় দ্রুতগতিতে বাড়লেও সংস্থাগুলো পণ্যের দাম বাড়ানোর হার ধীর করে দিয়েছে। জ্বালানি, খাবার, শ্রমশক্তি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া মূলত উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তবে নভেম্বরের থেকে পণ্যের দাম বাড়ানোর হার ধীর হয়ে গেছে।

নভেম্বরে ভোক্তা পর্যায়ে ভারতের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশে ধীর হয়েছে। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতি রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৪-৬ শতাংশের মধ্যে এসেছে। এছাড়া দেশটিতে নতুন কর্মী নিয়োগের হার পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও শক্তিশালী চাহিদার কারণে নতুন ব্যবসায়ের উপসূচক চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্থরতা এবং বেশির ভাগ দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারতের পরিষেবা খাতের এ তথ্যকে উজ্জ্বল স্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ সব মিলিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অন্যান্য অনেক অর্থনীতির চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।