আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো কমেছে তামার দাম। বিশ্বের শীর্ষ ধাতু উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ চীন কভিড-১৯ প্রতিরোধে বিদ্যমান বিধিনিষেধ জারি রাখার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তামার বাজার নিম্নমুখী চাপে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন বিধিনিষেধ অব্যাহত রাখলে দেশটির অর্থনীতির গতি আরো শ্লথ হয়ে পড়বে। ফলে ধাতুটির চাহিদা কমবে, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বৈশ্বিক চাহিদায়।
তথ্য বলছে, সর্বশেষ কার্যদিবসে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে তামার তিন মাসভিত্তিক সরবরাহ চুক্তির দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৭ হাজার ৫০৬ ডলারে। অন্যদিকে সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে ধাতুটির দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৬২ হাজার ৬৫০ ইউয়ান বা ৮ হাজার ৭০২ ডলার ৬০ সেন্টে।
এদিকে সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জের গুদামগুলোয় সম্প্রতি তামার মজুদ ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি।
প্রসঙ্গত, তামার বৈশ্বিক বিগলন খাতে গতি ফিরছে না। বর্তমানে দুই বছরের গড় হারের নিচেই অবস্থান করছে বিগলন কার্যক্রম। গত মাসে বিগলন কিছুটা বাড়লেও তা সন্তোষজনক নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, তামা বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলো এবং খনিগুলোর মধ্যে ট্রিটমেন্ট চার্জ নিয়ে দরকষাকষি সম্প্রতি বেড়েছে। এটি বিগলন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। স্যাটেলাইট বিশ্লেষক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ম্যারেক্স সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, বৈশ্বিক তামা উত্তোলনের বড় একটি অংশই আসে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে। কিন্তু এসব দেশের খনিগুলোয় শ্রমিকদের মাঝে নানা অভিযোগে বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। এছাড়া স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এদিকে বিগলন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাজার সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে তামার বৈশ্বিক বাজার সরবরাহে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আর এ ঘাটতির তীব্রতা ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে শিল্প খাতটির সম্প্রসারণ ক্ষমতার ওপর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি স্থানান্তরজনিত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ধাতুটির চাহিদা এ সময়ের মধ্যে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টনে উন্নীত করতে পারে, বর্তমানে যা ২ কোটি ৫০ লাখ টনে অবস্থান করছে।
এদিকে তামার দাম কমলেও এলএমইতে অ্যালুমিনিয়ামের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ২ হাজার ২৪৫ ডলারে। সিসার দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে।










