সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ব্যস্ততম রুট লোহিত সাগর এড়িয়ে চলছে বেশির ভাগ শিপিং কোম্পানি। ফলে ঘুরপথে গন্তব্যে যাচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজ, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে নতুন ধরনের সংকট তৈরি করেছে। তবে এর প্রভাবে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের ঘাটতিতে পড়বে না ভারত। এমন মন্তব্য করেছেন ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ (ইউএসআইএসপি) ফোরামের প্রধান। খবর দ্য হিন্দু। 

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে লোহিত সাগরের শিপিং রুট ব্যাহত করছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে এশিয়ার সংক্ষিপ্ত নৌপথটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জাহাজ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে আসায় বেড়ে গেছে সমুদ্র বাণিজ্যের সময়। একই সঙ্গে বেড়েছে জাহাজের প্রাপ্যতা, জ্বালানি ও বীমা খরচ।

ইউএসআইএসপির প্রেসিডেন্ট ও সিইও মুকেশ আঘি সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘লোহিত সাগর সংকটের কোনো বড় প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে না। এ সংকট এড়িয়ে ভারত টিকে থাকতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১৫ শতাংশের জন্য লোহিত সাগর ব্যবহৃত হয়। যদি কেউ এ রুট ব্যবহার না করে তবে সময় দ্বিগুণ লাগে এবং মূলধন ও পণ্য আরো তিন সপ্তাহ আটকে থাকে। এতে ভারত থেকে ইউরোপে চাল রফতানি ও জ্বালানি আমদানি প্রভাবিত হচ্ছে। এ সংকট মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেললেও ভারতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের তীব্র ঘাটতি সৃষ্টি করবে না।’

উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সমুদ্রযাত্রার পথ পরিবর্তন করার কারণে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জাহাজ যেতে অতিরিক্ত ১০-১৪ দিন সময় বেশি লাগছে। ইউরোপ বা ভূমধ্যসাগর থেকে আসা চালানে লাগছে ২০-২৫ দিন। 

সম্প্রতি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন। এ-বিষয়ক প্রশ্নে মুকেশ আঘি বলেন, ‘ভারতের কাছে বিকল্প হিসেবে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া ও লাতিন আমেরিকার জ্বালানি। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এখন কৌশলগতভাবে কাছাকাছি রয়েছে। তাই এটা বোধগম্য যে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র।’

এদিকে শিপিং কোম্পানি সিএমএ সিজিএম সম্প্রতি জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তাদের জাহাজ চলাচল করবেন না। ওই রুটে নিজেদের একটি পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার কয়েকদিন পর কোম্পানিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে মায়েরস্ক, মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি) ও হ্যাপাগ-লয়েডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লোহিত সাগর এড়িয়ে চলার ঘোষণা দেয় সিএমএ সিজিএম। ওই সময় বেশির ভাগ জাহাজ আফ্রিকার সমুদ্রপথে ঘুরিয়ে দিলেও অল্প কিছু জাহাজ ফরাসি নৌবাহিনীর সাহায্য নিয়ে লোহিত সাগর হয়ে চলাচল করছিল। এবার তাও বন্ধ করেছে বিশ্বের অন্যতম বড় শিপিং কোম্পানিটি।