বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে বিশ্বব্যাপী মন্দার কারণে সংকটের মুখোমুখি বিভিন্ন অর্থনীতি। এর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার জন্য আগামী বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করেছেন অর্থনীতিবিদরা। জাপান সেন্টার ফর ইকোনমিক রিসার্চ (জেসিইআর) ও নিক্কেই এশিয়া সংকলিত নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বৈশ্বিক মন্দা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অর্থনীতির স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা কমিয়েছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার জন্য বেছে নেয়া হয় আসিয়ানের ছয়টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভারতকে।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির কারণে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ছয়টি দেশের মধ্যে পাঁচটিই ধীরগতির জিডিপি প্রবৃদ্ধির মুখোমুখি হবে। পর্যটন খাতের প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ২০২৩ সালে খানিকটা এগিয়ে থাকবে থাইল্যান্ড।
২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ২ পয়েন্ট বৃদ্ধির মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। যদিও ২০২২ সালে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ উন্নীত করা হয়েছিল।
এ সম্পর্কে মালয়েশিয়ার কেনাঙ্গা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থনৈতিক গবেষণার প্রধান ওয়ান সুহাইমি সাইদি বলেন, ‘সরকারের নীতিগত সমর্থন ও পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অটুট থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
একইভাবে ইন্দোনেশিয়ার ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে সংশোধন করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অলাভজনক সংস্থা হাবিবি সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো উমর জুওরো বলেন, ‘ভোগ প্রবণতা বৃদ্ধি ও পণ্যের উচ্চমূল্য ২০২২ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করেছিল, ২০২৩ সালেও সম্ভবত এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’
বিপরীতে ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে পরের বছরের প্রবৃদ্ধির অনুমান যথাক্রমে শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ২ পয়েন্ট কমিয়ে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করেছেন যে দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনীতি দেশগুলোর রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।










