চলমান মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মালয়েশিয়ার ৫৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী কৌশল পরিবর্তন করছেন। গতকাল ব্রিটিশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম শ্রোডার্স প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

গ্লোবাল ইনভেস্টর স্টাডি ২০২৩ অনুসারে, গবেষণায় অংশ নেয়া বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী বিশ্বাস করেন যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের কারণে নীতি ও বাজার ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি গত বছরের গবেষণা ফলাফলের সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন কিছু উত্তরদাতা বাজারের চ্যালেঞ্জগুলোকে অপ্রত্যাশিত বলে মনে করেছিলেন। একই সঙ্গে আরো অনুকূল ও সহনীয় মূল্যস্ফীতি এবং নিম্ন সুদহারের পরিবেশে দ্রুত ফিরে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ার ৫৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী এরই মধ্যে তাদের বিনিয়োগের কৌশল নতুন করে সাজিয়েছেন এবং বাকিরাও তা করতে চাচ্ছেন।

শ্লোডার্সের ফ্ল্যাগশিপ গবেষণায় প্রায় ২৩ হাজার ব্যক্তির ওপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে। যারা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের প্রায় ৩৩ স্থান থেকে বিনিয়োগ করেছেন।

বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার ৯২ শতাংশ বিনিয়োগকারী গত বছরের তুলনায় অভিন্ন বা বেশি প্রবৃদ্ধি আশা করেন। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী ৮৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী প্রবৃদ্ধির আশা করেন।

মালয়েশিয়ার বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির আশা করেন। সেখানে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির আশা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।

শ্রোডার্সের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা জোহানা কিরক্লুন্ড বলেন, ‘গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে কিছু বিনিয়োগকারী অন্যদের তুলনায় দ্রুত সমন্বয় করছে। এ বিনিয়োগ কৌশলকে তিনটি ডি দিয়ে সংক্ষেপে বোঝানো হচ্ছে। এগুলো হলো ডিগ্লোবালাইজেশন, ডিকার্বনাইজেশন ও ডেমোগ্রাফিকস। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদহারের কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হচ্ছেন।’