দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন ধান ওঠায় নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে চালের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে শস্যটির দাম কমেছে কেজিতে ৪-৫ টাকা। বেশি চাহিদা না থাকায় সামনের দিনে চালের দাম বাড়বে না বলে মনে করছেন আমদানিকারকরা।

হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা অনুপ বসাক বলেন, চালের দাম কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা কম। স্বর্ণা-৫ জাতের চাল আগে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৪৫ টাকায় নেমেছে। আঠাশ জাতের চাল তিন-চারদিন আগে ছিল ৫৮ টাকা। সেটির দাম ৫৫-৫৬ টাকায় নেমেছে। মিনিকেট জাতের চাল ৬৮-৭০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৬৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য চালের দামও কমেছে।

অন্য চাল বিক্রেতা সুব্রত কুণ্ডু বলেন, ভারত থেকে আমদানীকৃত চালের দাম কিছুটা কমেছে, যা দেশের বাজারে দাম কমাতে সহায়তা করেছে। এছাড়া কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। এতে করে চালের খুচরা বিক্রি কমে গেছে। প্রথম অবস্থায় ধানের দাম মণপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ থাকলেও বর্তমানে ১ হাজার ২০০ টাকায় নেমেছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার কম দামে খোলাবাজারে চাল বিক্রি করছে, যা দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া দেশের বাজারে চালের তেমন চাহিদা নেই। তাই আমদানিকারকরা বন্দর থেকে চাল খালাসের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এমন অবস্থা বজায় থাকলে সামনের দিনে চালের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে আমদানীকৃত আতপ চাল ৪২ থেকে কমে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া স্বর্ণা জাতের চাল সাড়ে ৪৮ থেকে কমে প্রকারভেদে ৪৩-৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। আগের তুলনায় আমদানি কিছুটা বেড়েছে। আগে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০-১৫ ট্রাক চাল আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২০-২৫ ট্রাকে উন্নীত হয়েছে। তবে কয়েকদিন ধরে চাল খালাসের পরিমাণ কিছুটা কম। বন্দর দিয়ে ১-১২ ডিসেম্বর ১৮১টি ট্রাকে ৮ হাজার ৮২৪ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে এখনো বন্দরের অভ্যন্তরে ৫৬ ট্রাক চাল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।